এক দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হয়ে উঠেছে পুরুলিয়ার নাককাটা কালী মন্দির, যেখানকার নাককাটা কালী আজও ভক্তেরা চরণে পুজো দিয়ে থাকেন।
আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে পুরুলিয়ার চিরাবাড়ি এলাকার এক কৃষ্ণকায় দেবীমূর্তি ভক্তদের নিকট পরিণত হয়েছেন ‘নাককাটা কালী’ হিসেবে। সেই সময়ে এই গ্রাম ছিল বিস্তৃত ধানের জমি ঘেরা একটি জনমানবহীন এলাকা। ডাকাত দল প্রায়ই এখানে এসে ফসল লুট করত এবং স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে হামলা চালাত।
ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচাতে দেবী আরাধনা
স্থানীয়রা তাদের জীবন ও ফসল রক্ষায় অশ্বত্থ গাছের নিচে শ্যামা মায়ের আরাধনা শুরু করেন। বিশ্বাস ছিল যে, মা কালী তাদের রক্ষা করবেন। মায়ের পূজায় ডাকাতদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বলা হয়, মা কালী নূপুরের আওয়াজে গ্রামবাসীদের সতর্ক করতেন, ফলে ডাকাতরা আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালাত। কিন্তু এক রাতে রাগে ও প্রতিশোধে উন্মত্ত হয়ে ডাকাতরা শ্যামা মায়ের মূর্তি ভেঙে দেন এবং মায়ের নাক কেটে দেন।
অঘটনের পর ডাকাতদের দুর্ভোগ
এই ঘটনার পর থেকেই অদ্ভুত কাহিনির সূত্রপাত হয়। একে একে ডাকাত দলের সদস্যদের উপর নেমে আসে দুর্ভোগ; তাদের পরিবারে দেখা দেয় অভাব, মৃত্যু গ্রাস করে একাধিক সদস্যকে। এই ঘটনাগুলির পর থেকেই গ্রামবাসীরা দেবীর মূর্তিকে “নাককাটা কালী” নামে পূজিত করতে শুরু করেন। আজও সেই মূর্তি নাককাটা অবস্থায় পূজিত হয়ে আসছে এই এলাকায়।
বিশেষ আয়োজন ও মেলাবন্ধন
প্রতিদিনের পূজোর পাশাপাশি, কালীপুজো উপলক্ষে চারদিন ধরে বিশেষ উৎসবের আয়োজন হয়। কথিত আছে যে, এই মন্দিরে মানত করলে তা অবশ্যই পূর্ণ হয়। এজন্য কালীপুজোর রাতে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। মন্দির চত্বরের চারপাশে রয়েছে মায়ের শরীরের ভাঙা অংশ—হাত, পা, নাক। পুজোর দিন শিব ও বজরংবলিরও পূজা করা হয়। কালীপুজোর রাতে হাজারও ভক্তের পাত পড়ে প্রসাদের জন্য, যেখানে মধ্যরাতের খিচুড়ি প্রসাদ একটি বিশেষ আকর্ষণ।
FAQs
প্রশ্ন: নাককাটা কালী মন্দিরের বিশেষত্ব কী?
উত্তর: পুরুলিয়ার নাককাটা কালী মন্দিরের বিশেষত্ব হলো দেবীর নাককাটা অবস্থায় পূজিত হওয়া। ডাকাতদের হাতে দেবীর নাক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে মন্দিরে দেবীকে নাককাটা অবস্থায় পূজিত করা হয়। এখানে মানত করলে তা পূর্ণ হয় বলে প্রচলিত রয়েছে।