সাগরদ্বীপ থেকে ৭৭০ কিমি দূরে নিম্নচাপ: ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি

সাগরদ্বীপ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে নিম্নচাপটি ওড়িশার পারাদ্বীপের ৭৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে, এবং বাংলার সাগরদ্বীপ থেকে ৭৭০ কিমি দূরে রয়েছে। এই…

October 22, 2024
1 min read

সাগরদ্বীপ

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে নিম্নচাপটি ওড়িশার পারাদ্বীপের ৭৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে, এবং বাংলার সাগরদ্বীপ থেকে ৭৭০ কিমি দূরে রয়েছে। এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আবহবিদরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন।

নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বুধবার সকালে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে। বুধবার দুপুরে এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে, ফলে সমুদ্র উত্তাল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার পুরী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। ‘ল্যান্ডফলের’ সময় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বাধিক গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিমি, এবং দমকা হাওয়ার সর্বাধিক গতিবেগ ১২০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় সর্বাধিক তাপমাত্রা থাকবে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বঙ্গোপসাগরের একাংশ ইতিমধ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে। পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগর সোমবার থেকে উত্তাল রয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারে আরও উত্তাল হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের জন্য ইতিমধ্যে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষত, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাংলা এবং ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র খুবই উত্তাল থাকবে।

দুর্যোগের প্রভাব বাংলার দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা এবং বাঁকুড়া— এই আট জেলায় পড়তে পারে। আবহাওয়া দফতর বুধবার দুই ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

রাজ্যের কৃষি দফতর কৃষকদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। ধানের ৮০ শতাংশ দানা পেকে গেলে দ্রুত ফসল কেটে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পেঁপে, কলা ও অন্যান্য সবজির ক্ষেতগুলির জন্য সঠিক জলনিকাশি ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওড়িশাতেও গঞ্জাম, পুরী, এবং অন্যান্য জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রশাসন আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত স্কুলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত। ইতিমধ্যে বাংলার জন্য ১৪টি এবং ওড়িশার জন্য ১১টি দলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করা যায়, পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *