জুনিয়র ডাক্তারদের স্বাস্থ্য ধর্মঘটের ডাক নিয়ে সারা রাজ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে তারা ধর্মঘট শুরু করতে চলেছে। তবে, এ বিষয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেছেন, যদি ধর্মঘটের ফলে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়, তাহলে দায়ী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে এফআইআর হতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে কুণাল ঘোষ বলেন, “যদি এই স্বাস্থ্য ধর্মঘটের জন্য একজন রোগীরও মৃত্যু হয়, তাহলে থানায় এফআইআর করা হবে চিকিৎসক দেবাশিস হালদার এবং চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর নামে। তারা মূল প্ররোচক।” এর ফলে জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, এবং তারা এই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জুনিয়র ডাক্তার কিঞ্জল নন্দ পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, “আমরা এই আন্দোলন করতে আসিনি। সরকার দু’বার বৈঠক ডাকলেও আমাদের কথা শোনেনি। ডাক্তারদের জন্য যে চাপ আসে, তা বোঝা সম্ভব নয় যারা এই পেশায় নেই।” তিনি আরো বলেন, “ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কিছু হবে না, আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে।”
এদিকে, একই দিনে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে দেবাংশু বলেন, “আমি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনো তফাত দেখছি না। তারা বলছেন, আমরা চিকিৎসা বন্ধ রেখে মানুষ মারব। এর মানে কি? আমাদের আবদার মানা না হলে আমরা মানুষ মারা শুরু করব?” তার এই মন্তব্যে আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
জানিয়ে রাখি, ধর্মঘটের জন্য ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন অনিকেত মাহাতো, দেবাশীষ হালদার, সত্যজিৎ ঘোষ এবং আরও কয়েকজন ডাক্তার। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রতিনিধির সংখ্যা ১৫-এ পৌঁছাতে পারে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সমস্যা ও চিকিৎসকদের দাবি নিয়ে এই আন্দোলন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ডাক্তাররা আশাবাদী যে তাদের আন্দোলন সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং তারা সঠিক সমাধান পাবে। তবে, কুণাল ঘোষের হুঁশিয়ারি ও দেবাংশুর মন্তব্য এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজক করে তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কী ফল দেয় এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হয়।