এসসিও মঞ্চে জয়শঙ্করের কৌশলী পদক্ষেপ, নজরে গরিব দেশ ও চিন

জয়শঙ্করের ইসলামাবাদের 'জিন্না কনভেনশন সেন্টার'-এ আসন্ন এসসিও সম্মেলনে বহুমুখী কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি, গরিব…

October 16, 2024
1 min read

জয়শঙ্করের

ইসলামাবাদের ‘জিন্না কনভেনশন সেন্টার’-এ আসন্ন এসসিও সম্মেলনে বহুমুখী কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি, গরিব দেশগুলির (গ্লোবাল সাউথ) সংকট ও তাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি। খাদ্য, জ্বালানি, এবং সারের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে প্রস্তুত তিনি।

বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক কৌশল

এই সম্মেলন কেবল মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মঞ্চ নয়, এটি ভারত এবং চিনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির কৌশলগত স্বার্থের মঞ্চও। যেমনটা ব্রিকস মঞ্চে দেখা যায়, এখানে চিনের প্রভাব স্পষ্ট। বেজিং তার আধিপত্য বাড়াতে আর্থসামাজিক নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, আর নয়াদিল্লিও ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা, অর্থ-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায়।

জয়শঙ্করের

গ্লোবাল সাউথের পক্ষে জোরালো অবস্থান জয়শঙ্করের

জয়শঙ্কর এই সম্মেলনে গরিব দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার হবেন। তিনি তুলে ধরবেন তাদের সংকট, বিশেষ করে খাদ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক গুরুতর সমস্যা। পাশাপাশি, ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং ইউরেশীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সংযোগ শক্তিশালী করার বিষয়েও তিনি কড়া বার্তা দেবেন।

পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক

এসসিও সম্মেলনের বিশেষত্ব হলো, এখানে ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-চিনের সম্পর্ক নিয়ে অনেকটাই নজর থাকবে। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও সম্মেলনে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবুও বৈঠকের পরোক্ষ বার্তা বিনিময় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও চিনের ভূমিকা

চিনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্যছিয়াং-ও এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাদাখ সীমান্তে চিনের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এবং আলোচনা সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়া নিয়ে ভারত চিন্তিত। এমন প্রেক্ষাপটে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও নানা আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও চিন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

উপসংহার

এসসিও মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি এবং জয়শঙ্করের ভূমিকা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গরিব দেশগুলির স্বার্থরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *