বাবা সিদ্দিকির হত্যার পরিকল্পনা
মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডে ক্রমশ জটিল হচ্ছে তদন্ত। সম্প্রতি পুলিশের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসেই আততায়ীরা ১০ বার তাঁকে খুনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। তবে শেষমেশ ১২ অক্টোবর রাতে সেই চেষ্টাটি সফল হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। সর্বশেষ গ্রেফতার করা হয়েছে হরিশকুমার নিশাদ নামের ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে, যাকে উত্তরপ্রদেশ থেকে ধরা হয়েছে।
হত্যার পরিকল্পনা ও ব্যর্থতা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আততায়ীরা একাধিকবার সিদ্দিকিকে খুন করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশি তদন্তে ধরা পড়েছে যে, ১০ বার তাঁদের পরিকল্পনা বানচাল হয়। এক তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, “সিদ্দিকির ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, কিন্তু তিনি কখনও সেইসব জায়গায় উপস্থিত ছিলেন না বা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের কারণে তাঁকে আঘাত করা সম্ভব হয়নি।”
হত্যার দিন
১২ অক্টোবর রাতে, মুম্বাইয়ের খেরওয়াড়ি এলাকায় সিদ্দিকির ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর পুত্র জ়িশান সিদ্দিকির দলীয় কার্যালয়ের সামনে, নিজের গাড়িতে ওঠার সময় আততায়ীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খোলা জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল যাতে সঠিকভাবে হামলা চালানো যায়। এবার আর সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়নি, এবং সিদ্দিকির মৃত্যু ঘটে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতারি
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চার জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম দুই শুটার— গুরমেল সিংহ ও ধর্মরাজ কাশ্যপ। এছাড়াও পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রবীণ লোনকর নামের এক দুগ্ধ ব্যবসায়ীকে, যিনি এই হত্যার পেছনে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া হরিশকুমার নিশাদকেও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হরিশ মুম্বাইয়ে শুটারদের কাছে একটি বাইক পৌঁছে দিয়েছিলেন, যেটি ব্যবহার করেই সিদ্দিকির ওপর হামলা চালানো হয়।
অপরাধের পিছনের কারণ
অপরাধের পেছনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, হরিশের একটি লোহালক্করের দোকান রয়েছে পুণেতে, যা প্রবীণ লোনকরের দুধের দোকানের কাছেই অবস্থিত। পুলিশের মতে, প্রবীণ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাইক কেনার নির্দেশ দেন হরিশকে, যা পরে শুটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই বাইকই ব্যবহার করা হয় সিদ্দিকির উপর আক্রমণ করতে।
উপসংহার
বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ড মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে এক তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে এবং পুলিশের তদন্তে আরও নতুন মোড় দেখা দিচ্ছে। ধৃত চার অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।