৭ গোল হজম করেও মাথা নত নয়! জার্মানির কাছে হারলেও লড়াইয়ে মন জিতল ক্ষুদে দেশ কুরাসাও

জার্মানির কাছে হারলেও লড়াইয়ে মন জিতল ক্ষুদে দেশ কুরাসাও! বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৭-১ স্কোরলাইন দেখলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ সালের সেই বিখ্যাত সেমিফাইনাল— যেখানে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজ়িল। ১২…

June 15, 2026
1 min read

জার্মানির কাছে হারলেও লড়াইয়ে মন জিতল ক্ষুদে দেশ কুরাসাও!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৭-১ স্কোরলাইন দেখলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ সালের সেই বিখ্যাত সেমিফাইনাল— যেখানে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজ়িল। ১২ বছর পর আবারও একই ব্যবধানে জিতল জার্মানি। তবে এ বার প্রতিপক্ষ ছিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জার্মানি ৭-১ গোলে হারাল কুরাসাওকে। স্কোরবোর্ড একতরফা হলেও ম্যাচের গল্প কিন্তু শুধু জার্মানির দাপটের নয়। বরং ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে কুরাসাওয়ের সাহসী ও লড়াকু মানসিকতা।

মাত্র দেড় লক্ষের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। তুলনা করলে দেখা যাবে, ভারতের বা বাংলাদেশের অনেক ছোট শহরের জনসংখ্যাও এর চেয়ে বেশি। সেই দেশই যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। আর প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে পড়ল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি নিজেদের শক্তির পরিচয় দিতে শুরু করে। মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, খুব দ্রুত ম্যাচ পুরোপুরি জার্মানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। কিন্তু কুরাসাও হাল ছাড়েনি।

২১ মিনিটে ইতিহাস গড়েন লিভানো কমেনেন্সিয়া। তাঁর গোলেই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো গোলের স্বাদ পায় কুরাসাও। দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলে করা সেই গোল শুধু সমর্থকদেরই উচ্ছ্বসিত করেনি, জার্মানিকেও কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

তবে সেই গোল যেন জার্মানিকে আরও বেশি আগ্রাসী করে তোলে। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউরোপের শক্তিধর দলটি। একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণকে ভেঙে ফেলে তারা। কাই হাভার্টজ় জোড়া গোল করেন। এছাড়া গোলের তালিকায় নাম লেখান নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, ম্যাক্স ব্রাউন এবং ডেনিজ উন্ডাভ। সাতটি গোলের মধ্যে ছয়জন আলাদা গোলদাতা থাকাই প্রমাণ করে, জার্মানির আক্রমণ কতটা বৈচিত্র্যময় ছিল।

তবে এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার সম্ভবত কুরাসাও। সাত গোল খাওয়ার পরও তারা রক্ষণে গুটিয়ে যায়নি। সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠেছে, প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করেছে এবং শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেনি।

ফুটবলে অনেক সময় ফলাফল সব কিছু বলে না। কুরাসাওয়ের ক্ষেত্রেও সেটাই সত্যি। স্কোরবোর্ডে তারা বড় ব্যবধানে হেরেছে, কিন্তু মানসিক দৃঢ়তা এবং লড়াইয়ের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছে।

জার্মানি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দুর্দান্ত জয় দিয়ে। অন্য দিকে কুরাসাও বুঝিয়ে দিল, বিশ্বকাপ শুধু ট্রফি জেতার লড়াই নয়, স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাসেরও মঞ্চ। ছোট দেশ হয়েও তারা দেখিয়েছে, সাহস থাকলে বিশ্বসেরাদের সামনেও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *