৫ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে বিজেপি নেতা সাসপেন্ড, এফআইআর-এর পর তুহিনের দাবি, ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার আমি’

৫ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে বিজেপি নেতা সাসপেন্ড! বেহালায় এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির স্থানীয় নেতা তুহিন পাল। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর…

July 23, 2026
1 min read

৫ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে বিজেপি নেতা সাসপেন্ড!

বেহালায় এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির স্থানীয় নেতা তুহিন পাল। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বেহালা থানার পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। আপাতত দলীয় পদ থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তুহিন। তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বলি তিনি। তুহিনের কথায়, “নির্বাচনের পর দলের কয়েক জন নেতা তোলাবাজি ও হিংসার রাজনীতি করছেন। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই কারণেই পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগকারী প্রোমোটারের বিরুদ্ধেও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং কার প্ররোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখার আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী কাশীনাথ মণ্ডল পেশায় নির্মাণ ব্যবসায়ী। তিনি কলকাতা পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করছেন। কাশীনাথের স্ত্রীর অভিযোগ, বুধবার তুহিন পাল নিজেকে বিজেপির বেহালা মণ্ডল (২)-এর সভাপতি পরিচয় দিয়ে তাঁর স্বামীকে ডেকে পাঠান। সেখানে তুহিন ও তাঁর কয়েক জন সহযোগী মিলে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অভিযোগ, টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে কাশীনাথের স্ত্রী বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত ৪ মে-র পর থেকে বেহালার ১১৬, ১১৭, ১১৮ এবং ১২০ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক নির্মাণ ব্যবসায়ী ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকেও তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েক জন স্থানীয় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

বেহালা পূর্বের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর শিকদার জানিয়েছেন, বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় স্তরে অভিযোগের সমাধান না হওয়ায় কাশীনাথ মণ্ডল রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। এরপরই তুহিন পালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পাঠানো চিঠিতে ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সব অভিযোগকারী কি রাজ্য নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন? তাঁদের মতে, স্থানীয় স্তরেই যদি অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তবে সরকার বদলালেও সাধারণ মানুষের সমস্যার খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *