৪৮ দলের বিশ্বকাপ!
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ২০২৬ সালের আসরে প্রথম বার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। এত দিন ৩২ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই প্রতিযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চেয়েছে ফিফা। তাদের দাবি, এর ফলে বিশ্বের আরও বেশি দেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলমহলে বিতর্কও কম নয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালেই বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সামনে এনেছিলেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সামাজিক উৎসব হওয়া উচিত। সেই ভাবনা থেকেই ৪৮ দলের বিশ্বকাপের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলিই প্রতিযোগিতায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৬টি দল খেলত। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৪ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ৩২ হয়। কিন্তু তাতেও আফ্রিকা, এশিয়া বা ছোট ফুটবল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক কম ছিল।
নতুন ফরম্যাটে সেই চিত্র বদলেছে। এ বার আফ্রিকা থেকে ১০টি, এশিয়া থেকে ৯টি এবং কনকাকাফ ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে আরও বেশি দল সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডন, উজবেকিস্তানের মতো দেশ প্রথম বার বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে।
ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতে, এটি ফুটবলের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ। তাঁর বক্তব্য, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
তবে সমালোচকদের উদ্বেগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দলের সংখ্যা বাড়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে আরও বেশি দল নকআউট পর্বে উঠবে। ফলে জার্মানি, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলগুলির প্রথম পর্বেই ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। এতে প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও বড় প্রশ্ন হল ম্যাচের মান। জার্মানি বনাম কুরাসাও বা স্পেন বনাম কেপ ভার্দের মতো ম্যাচে শক্তির ভারসাম্য স্পষ্টতই একপেশে। ফলে দর্শকদের প্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও মিলতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষক ও লেখক জোনাথন উইলসনের মতে, ৩২ দলের বিশ্বকাপই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তাঁর আশঙ্কা, অতিরিক্ত ম্যাচ ও তুলনামূলক দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দর্শকদের আগ্রহ কমতে পারে।
তাই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন খোঁজার লড়াই নয়, বরং ফিফার এক বড় পরীক্ষাও। ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে, তা সফল হবে নাকি উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে— তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?