৩৫০০ ধনকুবের দেশ ছাড়ছেন ২০২৫-এ!
ভারতে বিত্তবানদের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও, দেশ ছাড়ার হিড়িকে রয়েছে এক নতুন মাত্রা। ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫০০ জন ভারতীয় ধনকুবের স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটেনভিত্তিক সমীক্ষা সংস্থা Henley & Partners। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান এই ট্রেন্ডে ভারতের পাশাপাশি নাম রয়েছে চিন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলোরও। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ধনকুবেরদের ‘স্বদেশবিমুখতা’র পেছনে কারণ কী?
কেন দেশ ছাড়ছেন ধনকুবেরেরা?
সমীক্ষা বলছে, উচ্চ করের হার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা, ও উন্নত সুযোগের অভাব— এসবই মূলত দেশত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভারতের অনেক ধনী ব্যক্তি মনে করছেন, দেশে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত। পাশাপাশি, দ্রুত পাল্টাতে থাকা সরকারি নীতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনেককেই নতুন দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলছে।
গত বছরে চিত্র আরও উদ্বেগজনক
২০২৪ সালে ভারতে থেকে প্রায় ৪,৩০০ জন কোটিপতি বিদেশে চলে গিয়েছেন। এর আগে, ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ছিল ৫,১০০। শুধু ধনকুবের নয়, তাঁদের সঙ্গে দেশে থেকেও প্রচুর সম্পদ বিদেশে চলে যাচ্ছে— যার আর্থিক মূল্য ২,৬২০ কোটি ডলার।
কোথায় যাচ্ছেন তারা?
Henley-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি, পর্তুগাল ও গ্রিস ধনীদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য। শুধু আমিরশাহিতেই ২০২৫ সালে ৯,৮০০ জন ধনকুবের বসতি গড়তে পারেন। ভারতীয়দের অনেকে ইতিমধ্যেই দুবাই, আবু ধাবি ও শারজায় জীবন শুরু করেছেন। কারণ? কম আয়কর, উন্নত নাগরিক পরিকাঠামো এবং উদার অভিবাসন আইন।
‘ব্রেক্সিট’-এর ধাক্কা এবং ব্রিটেনের প্রস্থান
শুধু ভারত নয়, ব্রিটেনও এই ‘বিত্তবান বিপ্লব’-এর মুখে। ১৬,৫০০ জন ব্রিটিশ কোটিপতির দেশত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে চলতি বছর। ‘ব্রেক্সিট’-এর পর সেখানকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শেয়ার বাজারের পতন এবং শরণার্থী সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এ ছাড়া কর কাঠামোর পরিবর্তন নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
চিনও তালিকায় উপরের দিকে
ভারতের থেকেও বেশি চিনা ধনকুবের দেশ ছাড়ছেন— প্রায় ৭,৮০০ জন। তাদের উদ্বেগ রাজনৈতিক চাপ, কঠোর নজরদারি এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে।
আমিরশাহির লোভনীয় প্রস্তাব
ধনীদের টানতে মরিয়া আমিরশাহি সরকার ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একগুচ্ছ সুযোগ দিচ্ছে বিদেশি নাগরিকদের। এটি এমন একটি রেসিডেন্স প্রোগ্রাম, যেখানে কম সময়েই বিদেশি ধনীদের নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আরব দেশগুলি।
এই দেশত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, এর প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতেও। বিনিয়োগের পরিমাণ কমছে, বাজারে টাকার গতি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রশাসনিক স্থিতি ও জীবনমান উন্নত না হলে কি আগামী দিনেও ভারতের ধনকুবেররা দেশ ছাড়তেই থাকবেন?
বিকৃত ছবি ও ‘দাদা সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব তৃণমূল-কন্যা রাজন্যা হালদার