৩২ বছর আগের এস্কোবার ট্র্যাজেডির স্মৃতি ফিরল!!
বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি টাইব্রেকার মিস। আর তারপরই শুরু প্রাণনাশের হুমকি। ঘটনাটি যেন আবার ফিরিয়ে আনল কলম্বিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের স্মৃতি— আন্দ্রেস এস্কোবারের মৃত্যুর কথা।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার। সেই হারের পর দেশে ফিরে মাত্র ২৭ বছর বয়সে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল তাঁকে। তিন দশকেরও বেশি সময় পরে, আবারও বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার এক ফুটবলারকে ঘিরে একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ় সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচের টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ শট মিস করেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতার জেরেই বিদায় নিতে হয় কলম্বিয়াকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কটূক্তি, গালিগালাজ এবং ক্রমশ প্রাণনাশের হুমকি আসতে শুরু করে।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে ক্যাম্পাজ়কে শুধু নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও খুনের হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ করে দেন। তাতেও হুমকি থামেনি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি দলের সঙ্গে দেশে না ফিরে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর কোনও ফুটবলার বা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া মেনে নেওয়া যায় না। ফুটবল মানুষের মধ্যে ঐক্য, শ্রদ্ধা ও আশার বার্তা বহন করে, ঘৃণা বা হিংসার নয়। এই ধরনের হুমকির কড়া নিন্দাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ক্যাম্পাজ়। সমাজমাধ্যমে মুখ ঢেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওয় তিনি বলেন, ফুটবল আনন্দের পাশাপাশি কঠিন সময়ও নিয়ে আসে। তবে হতাশা বা দুঃখ কখনও ঘৃণা ও সহিংসতার কারণ হতে পারে না। তিনি নিজের ব্যর্থতার জন্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
বর্তমানে ক্যাম্পাজ় এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। ১৯৯৪ সালের মতো আর কোনও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা।
একটি টাইব্রেকার মিস হয়তো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে, কিন্তু কোনও খেলোয়াড়ের জীবনকে কখনও বিপন্ন করতে পারে না— এই ঘটনাই সেই সত্যকে আবার সামনে এনে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?