৩০ স্ত্রী, বিলাসবহুল জীবন আর বেকারত্বের অভিশাপ!
এক দিকে রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্য, অন্য দিকে সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য। এই বৈপরীত্যই যেন আফ্রিকার ছোট্ট দেশ ইসোয়াতিনির পরিচয়। বিশ্বের সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার থাকা দেশ হিসেবে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় এসেছে এই রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ইসোয়াতিনিতে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৪.২ শতাংশ। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশই কর্মহীন। অর্থাৎ, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বড় অংশ চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসোয়াতিনি আয়তনে ছোট হলেও সমস্যার ভারে জর্জরিত। দেশটির তিন দিক ঘিরে রয়েছে South Africa এবং পূর্ব দিকে রয়েছে Mozambique। ২০১৮ সালে রাজা Mswati III দেশের নাম সোয়াজিল্যান্ড থেকে বদলে ইসোয়াতিনি রাখেন।
তবে নাম বদলালেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করেন। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
ইসোয়াতিনির অর্থনীতি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার উপর নির্ভরশীল। দেশটির মুদ্রা লিলাঙ্গেনি দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ডের সঙ্গে সমমূল্যে বাঁধা। ফলে প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ে ইসোয়াতিনির উপর।
দেশটির আর এক বড় সমস্যা স্বাস্থ্য খাত। বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উচ্চ এইচআইভি সংক্রমণ হার রয়েছে এখানে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য উৎপাদনেও আঘাত হেনেছে।
এই কঠিন বাস্তবতার বিপরীতে রয়েছে রাজপরিবারের বিলাসবহুল জীবন। রাজা এমসোয়াতি তৃতীয় বিশ্বের শেষ দিকের কয়েকজন পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন রাজাদের একজন। তাঁর ব্যক্তিগত বিমানের বহর, বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক প্রাসাদ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর একাধিক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এবং রাজপরিবারের ব্যয়ভার নিয়ে দেশজুড়ে প্রায়ই বিতর্ক তৈরি হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, সীমিত শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগের অভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীর গতি ইসোয়াতিনির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি না হলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেকারত্বের তালিকায় ইসোয়াতিনির পরেই রয়েছে South Africa এবং Djibouti। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসোয়াতিনির ক্ষেত্রে সমস্যার গভীরতা শুধু বেকারত্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্পদের অসম বণ্টন, জনস্বাস্থ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃহত্তর প্রতিচ্ছবি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?