৩০০ কোটি ডলার, ২ টন সোনা, ১৫টি বিমান!
ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতের আঁচ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। এই পরিস্থিতিতে ইরানের হামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) তেহরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছে বলে দাবি করেছে একাধিক পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম। সেই সমঝোতায় বিপুল অর্থ, সোনা এবং যাত্রিবাহী বিমান দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। তবে আবু ধাবি আনুষ্ঠানিক ভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঠিক কী দেওয়ার দাবি?
তেহরানের বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউএই প্রথম ধাপে ইরানের হাতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার তুলে দিয়েছে। পরের ধাপে প্রায় ২ টন সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮.৩ কোটি ডলার, দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এমনকি ১১ অগস্ট আবু ধাবি থেকে একটি বোয়িং-৭৩৭ তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরের দিন একই ধরনের একটি ব্যক্তিগত উড়ান ইরানের পায়াম বিমানবন্দরে পৌঁছয়। সূত্রের দাবি, সেই বিমানেই সোনা পাঠানো হয়েছিল।
আরও বড় দাবি—১৫টি যাত্রীবাহী বিমান
শুধু অর্থ বা সোনা নয়, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত বিমান পরিষেবা পুনর্গঠনের জন্য ইউএই মোট ১৫টি যাত্রীবাহী বিমান সরবরাহ করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে দু’টি এয়ারবাস A320-212 ইতিমধ্যেই ইরানের দিকে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। উপগ্রহচিত্রে রোমানিয়ার জর্জ এনেস্কো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান দু’টিকে দেখা গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আবু ধাবির পাল্টা দাবি কী?
এই সমস্ত অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছে আমিরশাহি সরকার। তাদের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ইরানকে কোনও ‘হিমায়িত’ অর্থ বা বিপুল পরিমাণ সোনা দেওয়া হয়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ঘন ঘন যাতায়াল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতে ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউএই-র ব্যাঙ্কে তেহরানের বিপুল অর্থ আটকে ছিল। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সেই অর্থের পরিমাণ ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।
কেন ইরানকে নিয়ে এত চিন্তায় ইউএই?
ইরান-ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলার নিশানায় পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ এসেছে। ইউএই-র দুবাই, শারজা ও আবু ধাবিতেও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার খবর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তেলের পরিকাঠামো, বিমানবন্দর এবং ডেটা সেন্টারও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাতে আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই আবু ধাবি তেহরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতার পথে হেঁটেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও সেই সমঝোতার অস্তিত্ব বা তার শর্তগুলি স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সামনে কী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার এই টানাপড়েনের প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে হরমুজ় প্রণালীর মাধ্যমে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, ৩০০ কোটি ডলার, ২ টন সোনা এবং ১৫টি বিমানের এই দাবি যথেষ্ট চাঞ্চল্যকর হলেও প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির বড় অংশই সূত্রনির্ভর। ইউএই সরকার তা অস্বীকার করেছে। ফলে গোপন ‘নজরানা’র দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার আগে আরও প্রমাণের অপেক্ষা থাকছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।