শতাব্দীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন শতাব্দী রায়। সেই সময় তাঁর জনপ্রিয়তা শীর্ষে হলেও, নায়িকা হয়েও খুব বেশি সুবিধা মেলেনি তাঁর। সিনেমার সেটে আরামের সুযোগ সুবিধা তখন ছিল একেবারেই সীমিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর আগের এক অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী, যা আজও তাঁর মনে দাগ কেটে রয়েছে।
১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত জনপ্রিয় ছবি রাজা রানি বাদশা-তে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শতাব্দী। সেই ছবির শুটিং চলাকালীন বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে তাঁকে পড়তে হয়েছিল চরম দুর্ভোগে। সে সময় স্টুডিওর বাইরে শুটিং মানেই ছিল নানা সমস্যার সম্মুখীন হওয়া। না ছিল ভ্যানিটি ভ্যান, না ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সেই পরিস্থিতিতেই নিজেদের মানিয়ে নিতে হতো।
শতাব্দী জানান, “মুকুটমণিপুরে তখন এতটাই গরম ছিল যে ছবিতে থাকা একটি কুকুরও মাটিতে দাঁড়াতে পারছিল না। আমি তখন পরিচালক হরদাকে বলেছিলাম, যেখানে কুকুর দাঁড়াতে পারছে না, সেখানে আমাকে দিয়ে তুমি নাচ আর অভিনয় করাচ্ছ!” তাঁর এই কথায় উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটলেও গরমের প্রকোপে শুটিং চালিয়ে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।
এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পরিচালক ও প্রযোজক বের করেছিলেন এক অভিনব সমাধান। বাইরে থেকে আনা হয়েছিল বিশাল বরফের চাঁই। শুটিং শেষে সেই বরফ গলে যাওয়া জলে স্নান করেই স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। শতাব্দী আজও মনে করেন, দর্শকের ভালোবাসার কাছে সেই সমস্ত কষ্ট কিছুই নয়।
আজকের দিনে সিনেমার সেটে আধুনিক সব ব্যবস্থা থাকলেও, সেই সময়ের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা যেন এক অন্যরকম গল্প। শতাব্দী বলেন, “এখন স্টুডিওর বাইরে শুটিং হলেও খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু তখন সত্যিই আমাদের অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হতো। সেই স্মৃতিগুলো এখনও মনে পড়লে বিস্মিত হই, আমরা কেমন করে এত গরমে শুটিং করতাম!”
২৭ বছর আগের এই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পথ কখনও সহজ নয়। তাঁর কথায়, “সেই সময়ের পরিশ্রমই আজ আমার জীবনের মূলধন। দর্শকের ভালোবাসায় সব কষ্ট ভুলে যাই।”
শতাব্দীর এই স্মৃতিচারণ শুধু বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের সাক্ষ্যই বহন করে না, বরং শিল্পীদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বেরও এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।
ছবিমুক্তির আগেই কোটির ঘরে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ! টলিউডে বাজিমাত এই জুটির