২১ জুলাইয়ের আগে রাজন্যা হালদার ইস্যুতে সরগরম তৃণমূল শিবির, নেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন

২১ জুলাইয়ের আগে রাজন্যা হালদার ইস্যুতে সরগরম তৃণমূল শিবির! ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সমাবেশ যতই এগিয়ে আসছে, রাজন্যা হালদারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার…

July 18, 2025
1 min read

২১ জুলাইয়ের আগে রাজন্যা হালদার ইস্যুতে সরগরম তৃণমূল শিবির!

২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সমাবেশ যতই এগিয়ে আসছে, রাজন্যা হালদারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের এই যুব নেত্রীকে ঘিরে দলের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে, বিশেষ করে তাঁর অতীত এবং রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে।

রাজন্যা হালদার ছিলেন ভাঙড়ের বাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক সময়ের পরিচিত মুখ। বিশেষ করে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর নাম সামনে এসেছিল। পরে তাঁকে দেখা যায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হতে। সেই সময় ভাঙড় এলাকায় তাঁকে ঘিরে বিতর্কও হয়। অভিযোগ ছিল, ছাত্র রাজনীতির ব্যানারে থেকে তিনি দলীয় প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি ফের তাঁকে নিয়ে আলোচনার মূল কারণ— ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজন্যার ভূমিকা কী হবে? তৃণমূলের বহু নেতা মনে করছেন, রাজন্যার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে দলে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা দলীয় ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, তাঁরা কিছুটা অসন্তুষ্ট। তাঁদের প্রশ্ন— যিনি আগে বিরোধী শক্তির হয়ে কাজ করেছেন, তাঁকে এত সহজে মূল দলে জায়গা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

তবে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজন্যা হালদারের মতো যুব মুখকে দলে নিয়ে আসা দলের কৌশলেরই অংশ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং ছাত্র-যুব আন্দোলনে শক্তি বাড়াতেই এমন পদক্ষেপ। রাজন্যার সাহস এবং নেতৃত্বদানের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতেই তাঁকে সামনে রাখা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘‘দলে নতুন রক্ত সঞ্চালন দরকার। রাজন্যা যেমন আগেও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই ভবিষ্যতে দলীয় কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করি। তবে দলে শৃঙ্খলা রক্ষা করাটা সবার আগে। সে দিকেও নজর রাখা হবে।’’

অন্যদিকে, বিরোধীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে নিশানা করেছে। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করছেন, তৃণমূল নিজের পুরনো নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে বাইরের লোকজনকে এনে দলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, এটা দলের ভিতরে গোষ্ঠী কোন্দলকেই বাড়িয়ে তুলবে।

রাজন্যা নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমি বরাবর মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছি। রাজনৈতিক দল বদলানো হয়েছে মানুষের স্বার্থে। আমি চাই, ভাঙড় ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার যুব সমাজের স্বার্থে কাজ করতে।’’

তবে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের আগে পর্যন্ত রাজন্যা হালদারকে নিয়ে এই জল্পনা যে চলতেই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে তৃণমূলের পুরনো এবং নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ঠিক কোথায় দাঁড়াবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শহিদ দিবসের সমাবেশে রাজন্যা হালদারকে বিশেষ ভূমিকা দিলে দলের ভিতরে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলীয় নেতারা জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে মূল লক্ষ্য শহিদ দিবস সফল করা এবং মানুষকে বার্তা দেওয়া। তাই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি কিছু বলতে চাইছেন না কেউ।

সব মিলিয়ে, ২১ জুলাইয়ের আগে রাজন্যা হালদার ইস্যু তৃণমূলের অন্দরমহলে যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা নিয়ে আর সন্দেহ নেই।

গোপালগঞ্জে উত্তেজনা: ‘নাইন সিরকার’ ওসাম চারজনের মৃত্যু, কারফিউ জারি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *