ভোট লুটের অভিযোগে ফের সরব Mamata Banerjee!
বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর দাবি, মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিলেও পরিকল্পিত ভাবে সেই ফল বদলে দেওয়া হয়েছে। নাম না করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “যিনি এখন চেয়ারে বসে রাজশাসন করছেন, তাঁর ওই চেয়ারে বসারই কথা ছিল না।”
রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের একাংশ বিজেপিকে সাহায্য করেছে। তাঁর কথায়, “হারের জায়গায় জেতা আর জেতার জায়গায় হারানো হয়েছে। প্রায় দেড়শো আসনে পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে। না হলে আমরা ২২০ থেকে ২৩০ আসন পেতাম।”
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মমতার দাবি, গণনার সময় তাঁর এজেন্টদের আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ভবানীপুরে কী ভাবে জিতেছেন, সেটা আদালতে বলব। সাহস থাকলে ইভিএমের ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করুন।”
ভোটের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত ২০ দিনে বহু পার্টি অফিস দখল হয়েছে, কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তৃণমূল সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
মমতার বক্তব্য, “চার তারিখে গণনা হয়েছে, আজ ২৪ তারিখ। এই ২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি। শুধু আমি নই, বাংলার মানুষও সহ্য করছেন।” তাঁর দাবি, প্রায় আড়াই হাজার পার্টি অফিস দখল হয়েছে এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে।
নাম না করে শুভেন্দুকে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, “আমরা প্রশাসন চালিয়েছি, কিন্তু কখনও পুলিশকে এ ভাবে ব্যবহার করিনি। এখন সব জায়গায় ভয় আর দমননীতি চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। যদিও পরে আন্দোলনের ফলে কিছু নাম ফের তোলা হয়। পাশাপাশি, তাঁর দাবি— গণনার সময় “ডেটা হ্যাকিং” এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে বহিরাগতদের ঢোকানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সরকারি প্রকল্প নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল আমলে শুরু হওয়া বহু প্রকল্পের শুধু নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, ডিএ বা সপ্তম পে কমিশন নিয়েও বিজেপি “কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে” বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ নীরবতার পর মমতার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তৃণমূল এখন রাস্তায় এবং আদালতে— দু’দিকেই লড়াই চালাতে চাইছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা