২০০৬ থেকে ২০২৬— ২০ বছর পরেও আর্জেন্টিনার ভরসা সেই মেসি, নবীনতম থেকে প্রবীণতম গোলদাতার অনন্য কীর্তি

২০০৬ থেকে ২০২৬— ২০ বছর পরেও আর্জেন্টিনার ভরসা সেই মেসি! বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনেক তারকাই এসেছেন, আলো ছড়িয়েছেন, তারপর বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু লিয়োনেল মেসি যেন অন্য এক গল্পের নাম। দুই…

June 17, 2026
1 min read

২০০৬ থেকে ২০২৬— ২০ বছর পরেও আর্জেন্টিনার ভরসা সেই মেসি!

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনেক তারকাই এসেছেন, আলো ছড়িয়েছেন, তারপর বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু লিয়োনেল মেসি যেন অন্য এক গল্পের নাম। দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা এই মহাতারকা আবারও প্রমাণ করলেন, সময় বদলালেও তাঁর গুরুত্ব একটুও কমেনি।

২০০৬ সালে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন কিশোর মেসি। আর ২০২৬ সালে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চেই আর্জেন্টিনার প্রবীণতম গোলদাতা হয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন তিনি। ২০ বছরের ব্যবধানে একই ফুটবলার দেশের নবীনতম এবং প্রবীণতম বিশ্বকাপ গোলদাতা— এমন নজির বিশ্ব ফুটবলে বিরল।

২০০৬ সালের ১৬ জুন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছিলেন মেসি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। সেই গোল তাঁকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার আসনে বসিয়েছিল।

ঠিক ২০ বছর পর, আবারও ১৬ জুন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে শুধু গোলই নয়, করে ফেললেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। সেই সময় তাঁর বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। ফলে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন তিনি।

এই দুই দশকে বদলে গেছে অনেক কিছু। বদলেছে সতীর্থ, কোচ, প্রতিপক্ষ, এমনকি ফুটবলের ধরণও। কিন্তু বদলায়নি মেসির প্রভাব। ২০০৬ সালে তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে তরুণ সদস্যদের একজন। আর ২০২৬ সালে তিনি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ নেতা, যাঁর দিকে তাকিয়েই এগোচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় মেসি শুধু গোলই করেননি, দেশের ফুটবল ইতিহাসকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা জয়, বিশ্বকাপ জয়— সব মিলিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই দিয়েগো মারাদোনার পাশে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন। তবে তাঁর সামনে এখনও নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের ফলে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এই মুহূর্তে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন। অর্থাৎ, আগামী ম্যাচে একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের মালিক হয়ে যাবেন।

দেশের জার্সিতে মেসির পরিসংখ্যানও বিস্ময়কর। ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি ইতিমধ্যেই ১২০টি গোল করেছেন। সংখ্যার বিচারে যেমন অনন্য, তেমনই প্রভাবের দিক থেকেও তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে বহু স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন মেসি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যেন তাঁর জন্য আরও একটি বিশেষ মিশন। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। আর প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স শুধু সংখ্যামাত্র।

২০০৬ সালে যে ছেলেটি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই মানুষটিই এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় নায়ক। দুই দশক পেরিয়েও বিশ্বকাপের মঞ্চে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু সেই একটাই নাম— লিয়োনেল মেসি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *