১৪ বার চড় খেয়েও থামলেন না, নাগার্জুনের হাতে গাল লাল করেছিলেন ইশা কোপীকর! আসল কারণ জানালেন নিজেই

নাগার্জুনের হাতে গাল লাল করেছিলেন ইশা কোপীকর! বলিউডের সঙ্গে দক্ষিণী সিনেমার জগতেও সমান সফল ইশা কোপীকর। তিনি শুধু সুন্দরী ও প্রতিভাবান নন, বরং তার প্যাশন এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাই…

July 30, 2025
0 min read

নাগার্জুনের হাতে গাল লাল করেছিলেন ইশা কোপীকর!

বলিউডের সঙ্গে দক্ষিণী সিনেমার জগতেও সমান সফল ইশা কোপীকর। তিনি শুধু সুন্দরী ও প্রতিভাবান নন, বরং তার প্যাশন এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইশা এমনই এক ঘটনা শেয়ার করলেন, যা শুনে অবাক না হয়ে পারা যায় না—সেই সময় তিনি অভিনেতা নাগার্জুনের হাতে পরপর ১৪ বার চড় খেয়েছেন!

শুধু অভিনয়ের জন্যই এই চড়?

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এই চড় খাওয়া কোনো রিয়েল বয়ফ্রেন্ড বা শুটিংয়ের বাইরে কোনও ঘটনা নয়। ১৪ চড়ের ঘটনা ঘটেছিল ইশার তেলুগু ছবির ‘চন্দ্রলেখা’র একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে। সেখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য স্ল্যাপ সিন ছিল, যা চরিত্রের আবেগ ও নাটকীয়তাকে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল। নাগার্জুন প্রথমে খুবই আলতো হাতে ইশার গালে স্পর্শ করতেন, যাতে কোনও চোট না লাগে। কিন্তু ইশার পক্ষ থেকে চিঠা এসেছিল—“আসল স্ল্যাপ দিন, যেন দর্শকের মনে সত্যিই দৃশ্যটি ছাপ ফেলে।”

গাল লাল করে দিয়েও থামেননি ইশা!

নাগার্জুন একে একে ১৪ বার চড় মারেন, যার ফলে ইশার গাল লাল হয়ে যায় এবং চড়ের দাগ স্পষ্ট ফুটে ওঠে। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার, তাতে কোনো আক্ষেপ বা বিরক্তি ইশার ছিল না। বরং তিনি নিজেই থামাতে বলেননি। কারণ, “দৃশ্যটা যেন প্রামাণিক হয়, সেটাই দরকার ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম এগিয়ে যেতে, আমি যেই দৃশ্যটি করতে চাইছিলাম, তাতে রোমাঞ্চ যেন থাকে।”

নাগার্জুনের ‘দুঃখ’!

অভিনয়শিল্পী নাগার্জুনও এই ব্যাপারে স্বীকার করেছেন, দৃশ্য শেষ হওয়ার পর তিনি একাধিকবার ইশাকে ‘সরি’ জানিয়েছেন। যদিও ইশা জানালেন, এই চড় খাওয়ার পেছনে তিনি নিজেই দায়ী। “ওর মধ্যে এমন কোনো ভুল ছিল না। ওর মনে অপরাধবোধ কাজ করতো, সেটা দেখেই আমি মনে করেছিলাম, সেটাই তো ভালো অভিনয়ের জন্য দরকার।”

ইশার বলিউড যাত্রা ও সংগ্রাম

ইশা কোপীকর মাত্র ১৫ বছর বয়সে বলিউডে পা রাখেন, কিন্তু কঠিন সঙ্গেও লড়াই করেছেন। ‘কাস্টিং কাউচ’ সহ নানা কঠিন মুহূর্ত পার করেছেন। তবু কখনো অভিনয় ছেড়ে দেয়নি, কারণ এটি ছিল তার প্যাশন, শুধুমাত্র কাজের জন্য নয়। বলিউড ছাড়াও তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং মরাঠি ভাষার সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি। বিয়ের পর অবশ্য এক পর্যায়ে অভিনয়ের থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।

অভিনয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসা

ইশার এই কাহিনী আমাদের এক কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—কোনো শিল্পী তার কাজের জন্য কতটা উৎসর্গ করতে পারে। মাত্র ১৪টা চড় খেয়ে সে দৃশ্যের প্রামাণিকতা বজায় রাখা, তার অভিনয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর আত্মত্যাগের প্রতীক। অনেক সময়ই শিল্পীদের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের পেছনে এমন ছোট ছোট অজানা গল্প লুকিয়ে থাকে, যা দর্শকের সামনে আসে না।

তাই বলতেই হয়, ইশা কোপীকরের মতো অভিনেত্রীদের জন্য অভিনয় শুধু পেশা নয়, এক ধরণের জীবনদর্শন। এমনই প্যাশন আর প্রতিশ্রুতিই তাকে আজও মানুষের মনে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।

করিশ্মার কঠিন সময়ে করিনার নীরব শক্তি: কিভাবে দিদিকে পাশে দাঁড়ালেন বেবো?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *