জামিনে বেরিয়ে আবেগঘন বার্তা রাজপালের!
প্রায় দু’সপ্তাহের কারাবাসের পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বলিউড অভিনেতা Rajpal Yadav। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে অন্তর্বর্তী জামিনে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। জেল থেকে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন অনুরাগীরা— আর সেখানেই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেতা।
কেন জেলে যেতে হয়েছিল?
প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত মামলায় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজপাল। অভিযোগ ছিল, ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় তাঁর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করে। সেই মামলার সূত্রেই আদালতের নির্দেশে তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং জেলে যান।
মোট সাতটি চেকে তাঁর সই ছিল বলে অভিযোগ। প্রতিটি চেকের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। চেক বাউন্স হওয়ার পর আদালত প্রতিটি মামলায় তিন মাস করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রতিটি চেকের জন্য ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়।
মুক্তির পর কী বললেন অভিনেতা?
জেল থেকে বেরিয়ে রাজপাল প্রথমেই ধন্যবাদ জানান তাঁর অনুরাগীদের। তিনি বলেন,
“৩০ বছর ধরে বলিউডে কাজ করছি। সাধারণ মানুষ থেকে ছোট শিশুরা— সকলেই সব সময় আমার পাশে থেকেছে। এই ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
তিনি দিল্লি হাইকোর্টকেও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর কথায়, আদালত তাঁকে নিজের পক্ষের সত্য তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, মামলার ভবিষ্যৎ শুনানিগুলিতে তিনি নিয়মিত হাজির থাকবেন।
সামনে কী?
এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ১৮ মার্চ। ততদিন অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত থাকবেন অভিনেতা। আইনি প্রক্রিয়া চললেও আপাতত তিনি মুক্ত হয়ে স্বস্তি পেয়েছেন— তা তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট।
কঠিন সময়েও অনুরাগীদের সমর্থন
জেল থেকে বেরোনোর সময় ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু অনুরাগী। তাঁদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান রাজপাল। তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসাই তাঁকে শক্তি দিয়েছে এই কঠিন সময় পার করতে।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কমেডি চরিত্রে দর্শকদের হাসিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তব জীবনের এই অধ্যায় তাঁর জন্য ছিল একেবারেই ভিন্ন— চাপ, অনিশ্চয়তা আর আইনি লড়াইয়ে ভরা।
এখন লক্ষ্য আইনি লড়াই শেষ করা
রাজপালের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি এখন দ্রুত আইনি জটিলতা মেটানোর দিকে মন দিতে চান। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে কাজে ফেরার প্রস্তুতিও শুরু করবেন।
কারাগারের ১২ দিনের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে কঠিন এক অধ্যায় হয়ে থাকলেও, মুক্তির পর তাঁর বার্তায় ফুটে উঠেছে কৃতজ্ঞতা, আশাবাদ এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই