বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত খুব বেশি আলোচনায় থাকে না। কিন্তু এ বার সেই ধারণা বদলে দিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মোট ১০টি গোলের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ইংল্যান্ড। শুধু উত্তেজনাই নয়, এই ম্যাচে গড়ে উঠেছে একাধিক বিশ্বকাপের রেকর্ড ও ব্যক্তিগত মাইলফলক।
সবচেয়ে বড় নজির, ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে দুই দলই অন্তত চারটি করে গোল করল। শেষ বার ১৯৬২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কলম্বিয়ার ম্যাচ ৪-৪ গোলে শেষ হয়েছিল। সেই বিরল ঘটনা আবার দেখা গেল এই বিশ্বকাপে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। এর আগে এই ম্যাচে সর্বাধিক গোল হয়েছিল ১৯৫৮ সালে, যখন ফ্রান্স ৬-৩ ব্যবধানে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েছিল। অর্থাৎ মোট ৯ গোল। এ বার সেই রেকর্ড ভেঙে ১০ গোলের ম্যাচ উপহার দিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
শুধু তাই নয়, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির ১০-১ ব্যবধানে এল সালভাদরকে হারানোর পর এই প্রথম কোনও বিশ্বকাপ ম্যাচে মোট ১০টি গোল দেখা গেল। প্রায় ৪৪ বছর পর এমন গোলবন্যা ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চিত করেছে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম কিলিয়ান এমবাপে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করালেন ২২-এ। সেই সঙ্গে তিনি টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপেও তাঁর গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০, ফলে সোনার বুট জয়ের দৌড়ে তিনি এখন সবচেয়ে এগিয়ে।
ফ্রান্সের আর এক তারকা মাইকেল ওলিসেও নিজের নাম তুলেছেন ইতিহাসে। এই বিশ্বকাপে তিনি মোট ৭টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। গত ছয় দশকে কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপে সতীর্থদের দিয়ে এত গোল করাতে পারেননি। ১৯৭০ সালে পেলের ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যামও নতুন নজির গড়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। একটি বিশ্বকাপে কোনও ইংরেজ ফুটবলারের সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ছিল গ্যারি লিনেকারের, যিনি ১৯৮৬ সালে ৬ গোল করেছিলেন। সেই রেকর্ড এখন অতীত।
ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক অবশ্য বুকায়ো সাকা। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করা মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হলেন। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন জিওফ হার্স্ট, গ্যারি লিনেকার এবং হ্যারি কেন।
সব মিলিয়ে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই হলেও এই ম্যাচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নিল এক অনন্য গোলউৎসব এবং একের পর এক রেকর্ডের কারণে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?