হাসপাতালে গিয়েও অনশন ভাঙেননি সোনম!
দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে পুলিশি হস্তক্ষেপে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন এখনও ভাঙেনি। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো জানিয়েছেন, ওয়াংচুক এখনও শুধু নুনজল খাচ্ছেন, অন্য কোনও খাবার বা পানীয় গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ এবং হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। শনিবার ছিল তাঁর অনশনের ২১তম দিন। সকালে সাদা পোশাকের দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে তুলে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে গীতাঞ্জলি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশে কোথাও হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলা হয়নি। তাঁর কথায়, হাই কোর্ট শুধু ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিল, কিন্তু জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও ওয়াংচুকের অনশন অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিন থেকে যেমন তিনি শুধুমাত্র নুনজল খেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, এখনও সেই নিয়মেই আছেন। তাঁর দাবি, “অনশন ভাঙানো হয়েছে” বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়।
চিকিৎসা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিবার। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, সফদরজং হাসপাতালে কার্যত কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না, শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে। কিন্তু পরিবারের দাবি, আগের দিন সেই মাত্রা ছিল ৪.৩। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এতটা কমে যাওয়া নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে।
এই কারণেই অন্য একটি পরীক্ষাগারে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। গীতাঞ্জলি বলেন, প্রয়োজন হলে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাঁরা এমন একটি হাসপাতালে ওয়াংচুককে স্থানান্তরের আবেদন করেছেন, যেখানে তাঁদের আস্থা রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, সরকার আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে, তার জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এরপর চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবারের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং সরকারকে আর হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যের বিষয়ে গীতাঞ্জলি জানান, দীর্ঘ ২১ দিনের অনশনের কারণে ওয়াংচুক কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা অটুট রয়েছে। ইসিজি-সহ অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট আপাতত স্বাভাবিক বলেই জানিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি অন্য পরীক্ষাগারের রিপোর্ট হাতে এলেই পরিষ্কার হবে।
এদিকে, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও যন্তর মন্তরে আন্দোলন থেমে নেই। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার থেকে অনশন শুরু করেছেন। আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ে অনড় থাকলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?