টুখেলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হ্যারি কেন!
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর শুধু বিদায়ের হতাশাই নয়, ইংল্যান্ড শিবিরে দেখা দিল মতবিরোধের ইঙ্গিতও। ম্যাচের পর অধিনায়ক হ্যারি কেনের মন্তব্য এবং কোচ টমাস টুখেলের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, দলের কৌশল নিয়ে দু’জনের ভাবনায় যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হারতে হয় ইংল্যান্ডকে। সেই হারের অন্যতম কারণ হিসেবে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফুটবলকেই দায়ী করেছেন হ্যারি কেন। তাঁর মতে, লিড পাওয়ার পর দল আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখতে পারেনি, বরং শুধুই ব্যবধান রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে কেন বলেন, এই পরাজয় দলের সকলের জন্যই অত্যন্ত কষ্টের। ফুটবলাররা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছেন, তবুও শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, ম্যাচের দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডই খেলার নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেই আধিপত্য ধরে রাখা যায়নি।
অধিনায়কের বক্তব্যে সরাসরি কোচের নাম না থাকলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। কেনের মতে, গোল করার পর আরও আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তে দল নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায় এবং রক্ষণভাগে অতিরিক্ত ফুটবলার নামানো হয়। ফলে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পায় এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সুযোগ তৈরি করেও গোল পাওয়া যায়নি। তাই হতাশা থাকলেও এই ফল মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
অন্যদিকে, কোচ টমাস টুখেল নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দৃঢ়ভাবেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন কোচ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই। সেই সময় পরিস্থিতি বিচার করে পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশলই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে হয়েছিল। ফল অনুকূলে না এলেও তিনি মনে করেন না যে পরিকল্পনাটি ভুল ছিল।
টুখেল বলেন, হারের দায় অবশ্যই তিনি নিচ্ছেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, একই পরিকল্পনায় ইংল্যান্ড জিততেও পারত। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা যেভাবে আক্রমণের ঝড় তোলে, তাতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। বিশেষ করে ক্রস এবং হেডে আর্জেন্টিনার দাপট সামলাতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড।
তবু নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট টুখেল। তাঁর মতে, এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা ম্যাচগুলির একটি ছিল এটি। শুধু বলের দখল ধরে রাখতে না পারার কারণেই প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে।
সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোচ ও অধিনায়কের এই ভিন্ন মত কি শুধুই ম্যাচ-পরবর্তী হতাশার বহিঃপ্রকাশ, নাকি দলের অন্দরে আরও গভীর সমস্যার ইঙ্গিত? সেই উত্তরই হয়তো আগামী দিনে মিলবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?