শান্তি বৈঠকের মাঝেই কড়া বার্তা জেলেনস্কির!
তিন বছর পেরিয়ে যাওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল। শান্তি আলোচনার মাঝেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের আবহে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি— রাশিয়া যদি হামলা না থামে, ইউক্রেনও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাবে।
সোমবার তুরস্কে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া এই বৈঠকে সাময়িক অগ্রগতি হলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। বন্দি সেনাদের এবং মৃতদেহ বিনিময়ে দুই পক্ষ সম্মত হলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল রাশিয়ার ঘাঁটি
এরই মধ্যে ইউক্রেনের একটি বিস্ময়কর ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় রাশিয়ার পাঁচটি বিমানঘাঁটির অন্তত ৪১টি বোমারু বিমান। এই হামলা যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে জেলেনস্কি বলেন, “যতক্ষণ না রাশিয়া আমাদের মাটিতে বোমা ফেলছে, ততক্ষণ আমরাও চুপ থাকব না। ড্রোন হামলা চলতেই থাকবে।”
আলোচনায় আশার আলো, তবু অচলাবস্থা
বৈঠকে ইউক্রেন আগেই কয়েকটি শর্ত রেখেছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল— রাশিয়াকে দখল করা অঞ্চল থেকে সরে যাওয়া এবং যুদ্ধবিরতির লিখিত প্রতিশ্রুতি। কিন্তু রাশিয়ার প্রতিনিধিরা পাল্টা দাবি জানায়— দখলকৃত অঞ্চল মস্কোর হাতে তুলে দিতে হবে, এবং ইউক্রেনের সরকারি ভাষা হিসেবে রুশ ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
এই দাবিগুলিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন। তাদের মতে, এই দাবিগুলি শান্তি আনার পরিবর্তে আগ্রাসনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় চাইছে কিভ। আগামী সপ্তাহে তারা রাশিয়ার শর্তগুলির বিস্তারিত মূল্যায়ন করে উত্তর দেবে বলে জানানো হয়েছে।
শান্তি আলোচনা চললেও রুশ হামলা অব্যাহত
অন্য দিকে, আলোচনার মধ্যেও রাশিয়ার হামলা থেমে থাকেনি। ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তবর্তী ক্রামাটরস্কে এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, আহত আরও দু’জন। ইলিনিভিকায় মারা গিয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি। খারকিভ অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন দুই মহিলা। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রতিদিন রাশিয়ার তরফে হামলা হচ্ছে এবং সেই প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধও জারি থাকবে।
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান
জেলেনস্কি আমেরিকাকে আহ্বান জানিয়েছেন আরও কঠোর ভূমিকা নিতে। তিনি আশাবাদী, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে সমর্থন জানাবেন এবং পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করবেন।
এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা যতটা আলোচনায় আছে, তার চেয়ে বেশি জায়গা নিচ্ছে আগাম লড়াইয়ের প্রস্তুতি। ইউক্রেন বুঝিয়ে দিয়েছে— কথাবার্তা চলতে পারে, কিন্তু আত্মরক্ষা থেমে থাকবে না।
সারা দিন “স্নান করে বেরোলাম” লুক—কীভাবে পাবেন তরতাজা ও সতেজ চুলের জাদু?