লাউডন স্ট্রিট থেকে সল্টলেক!
বৃহস্পতিবার সকালটা যে এতটা নাটকীয় হয়ে উঠবে, তা বোধহয় কেউই পুরোপুরি আঁচ করতে পারেননি। ইডি আধিকারিকেরা কিছু প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা ধরেই নিয়েছিলেন, কিন্তু স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এসে পড়বেন— এমন দৃশ্যের জন্য তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না।
সকাল থেকেই লাউডন স্ট্রিটের একটি বহুতলে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি শুরু করে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরে জানান, ভোর ৬টা থেকেই অভিযান শুরু হয়েছিল। তল্লাশির খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, শেক্সপিয়ার সরণি থানার ওসি এবং অন্য পুলিশ আধিকারিকেরা। ইডির দাবি, তাঁরা এসে তল্লাশিতে থাকা আধিকারিকদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও।
এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই আসে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত। বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে প্রতীকের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি আধিকারিকেরা খানিকটা হকচকিয়ে যান। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলে সামনে থাকা টেবিল থেকে একটি সবুজ ফাইল ও একটি ল্যাপটপ তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও কথাবার্তা হয়নি। মাত্র ১৪ মিনিট পর, দুপুর ১২টা ১৩ নাগাদ তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
নিচে নেমে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেই তিনি সোজা রওনা দেন সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরের দিকে। ইডি আধিকারিকেরা আগেই বুঝেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতে পারেন। তবু তল্লাশি চলছিল। বেলা পৌনে ১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
লাউডন স্ট্রিটের মতো দ্রুত নয়— সল্টলেকে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক দিকে দফতরের ভেতরে তল্লাশি, অন্য দিকে সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী— এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি ইডি আধিকারিকেরা। সংস্থার এক সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে কোনও নথিতে হাত দেননি। তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরাই কিছু কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক নথি সংগ্রহ করে গাড়িতে তোলেন।
ইডির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত হওয়ার পর আর স্বাভাবিক ভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। যদিও সংস্থার দাবি, তাঁর আসার আগে পর্যন্ত তল্লাশি সুষ্ঠুভাবেই চলছিল। পরে ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়, নথি জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। পাল্টা মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।
সল্টলেকের দফতর থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ‘হামলার’ জবাব দেবে রাজ্যের মানুষ। তাঁর দাবি, নির্বাচনী কৌশলের তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য। সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবারের সকাল ইডি ও রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে রইল— যেখানে তল্লাশি অভিযান ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল হঠাৎ হাজির মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি