সাক্ষী ঝাকে নিয়ে সহানুভূতির বার্তা সময় রায়নার!
কমেডি রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়াজ় গট লেটেন্ট’-এর দ্বিতীয় সিজ়ন শুরু হতেই ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এবারের বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিহারের শিক্ষিকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সাক্ষী ঝা। অডিশনের সময় তাঁর একাধিক মন্তব্য দর্শকদের বিস্মিত করেছে, আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
মঞ্চে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সাক্ষী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি পুরুষদের ঘৃণা করি।” বিচারকদের একজন জানতে চান, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের প্রতিও কি তাঁর একই মনোভাব? উত্তরে তিনি জানান, বাবা, দাদু কিংবা ভাই— কাউকেই তিনি এই ভাবনার বাইরে রাখেন না। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
এরপর আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন সাক্ষী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিয়ে হলে তিনি নাকি “স্বামীকে মদ খাইয়ে বেল্ট দিয়ে মারবেন।” এই বক্তব্য শুনে বিচারক ও উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিস্ময়ের সঞ্চার হয়। শেষ পর্যন্ত বিচারকদের কেউই তাঁকে নম্বর দেননি। যদিও সাক্ষী নিজের বক্তব্য থেকে একটুও সরে আসেননি।
ভিডিয়োটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষিকার মুখে এমন মন্তব্য কতটা দায়িত্বশীল। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, তাঁকে নাকি শিক্ষকতার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
এই বিতর্কের মাঝেই সাক্ষীর পাশে দাঁড়িয়েছেন কৌতুকশিল্পী Samay Raina। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দর্শকদের উদ্দেশে অনুরোধ করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি না করার জন্য।
সময় বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কী হচ্ছে, আমি সবই দেখছি। সাক্ষী ঝাকে নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, মঞ্চে উঠে নিজের মতো করে পারফর্ম করা সহজ নয়। তাই ওকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবেন না। পর্দার ওপারেও একজন বাস্তব মানুষ আছেন।”
তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই সাক্ষীর দৃষ্টিভঙ্গি ভুল মনে হয়, তবে তার জবাব বিদ্বেষ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা এবং ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “এটাই আমাদের সুযোগ, ওকে ভুল প্রমাণ করার। সবাই মিলে ওর প্রতি শুধু ভালোবাসা দেখান।”
সময় রায়না একই সঙ্গে স্বীকার করেন, সাক্ষী ঝার উপস্থিতির কারণেই ওই পর্বটি দর্শকদের মধ্যে এত বেশি আলোচনা তৈরি করেছে।
ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— বিনোদনের মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্যের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা সম্ভব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?