সৌম্যকে ছেড়ে দূরে সন্দীপ্তা!
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে চণ্ডীগড়ে রয়েছেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন। কলকাতার পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে আপাতত তিনি ডুবে আছেন নতুন অভিজ্ঞতায়। কারণ, তাঁর জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজ় নষ্টনীড় এবার হিন্দি মোড়কে তৈরি হচ্ছে। ১০০ পর্বের এক টেলিভিশন সিরিজ়ে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন সন্দীপ্তা। যদিও একে সাধারণ ধারাবাহিক বলা যাবে না, তবুও কাজের ধরন একেবারেই অন্য রকম। নায়িকার কথায়, “অভিজ্ঞতাটা একেবারেই নতুন, তাই বেশ উপভোগ করছি। আর হিন্দি ভাষায়ও আমি সব সময় স্বচ্ছন্দ।”
হিন্দি ভাষায় কাজের অভিজ্ঞতা
ভবানীপুরের মেয়ে সন্দীপ্তার শৈশব থেকেই অবাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে ওঠাবসা। সেই সূত্রে হিন্দি ভাষায় আলাপচারিতা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিদিন নিয়ম করে হিন্দি বলা অভ্যাস না থাকলেও সেটে পরিচালক এবং সহ-অভিনেতাদের সহযোগিতায় সহজেই মানিয়ে নিচ্ছেন তিনি। শুটিং ফ্লোরে রয়েছেন পঞ্জাবি ও হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিরও নামী তারকারা, ফলে অভিজ্ঞতাটা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট
কাজের জন্য এ ভাবে দীর্ঘ সময় শহর থেকে দূরে থাকা তাঁর জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা। এবারই প্রথম স্বামী সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, মা-বাবা এবং নিজের বাড়ি ছেড়ে এত দিন অন্য শহরে রয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী বললেন, “সৌম্য আর আমার দু’জনেরই কষ্ট হচ্ছে। মা-বাবাও দূরে। হঠাৎ করেই পাঁচ দিনের মধ্যে কলকাতা ছেড়ে চণ্ডীগড়ে আসতে হয়েছে। তাই মানিয়ে নিতে সময় লাগছে।”
তবে কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টাও করছেন সন্দীপ্তা। সম্প্রতি তিন দিনের ছুটিতে কলকাতায় ফিরেছিলেন। আবার সৌম্য সময় পেলেই চণ্ডীগড়ে চলে আসেন স্ত্রীর কাছে। আপাতত এ ভাবেই চলছে তাঁদের দূরত্ব সামলানোর চেষ্টা।
নতুন সম্ভাবনার পথে
যদিও এত বছরে হিন্দি ধারাবাহিকের প্রস্তাব একাধিক বার এসেছে, তবে তখন প্রয়োজন অনুভব করেননি সন্দীপ্তা। এবার গল্প ও চরিত্র দুটোই তাঁর মন ছুঁয়েছে। সিরিজ়টির সম্প্রচার শুরু হবে অগস্টের শেষে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি হিন্দি শিক্ষক রেখে প্রশিক্ষণও নিতে চান, যাতে ভাষায় আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। ভবিষ্যতে সঠিক চরিত্র ও গল্প মিললে হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন তিনি।
পেশা আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য
শুটিংয়ের ব্যস্ততা, নতুন শহরে মানিয়ে নেওয়া এবং একই সঙ্গে পরিবারের জন্য মন খারাপ—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে সন্দীপ্তার দিনযাপন একেবারেই অন্য রকম। তবে তিনি মানছেন, জীবনের এই অধ্যায় তাঁকে আরও শক্ত করে তুলছে। নিজের ভাষা, সংস্কৃতি এবং প্রিয়জনদের থেকে দূরে থেকেও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পরিবারের থেকে দূরে থাকলেও সন্দীপ্তার চোখেমুখে নতুন অভিজ্ঞতার উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “অসুবিধা তো আছেই, কিন্তু কাজের সুযোগও তো জীবনে এক বারই আসে। তাই পেশাগত দায়িত্ব সামলে, ব্যক্তিগত আবেগ নিয়েই এগিয়ে চলতে হবে।”