সোভিয়েত পতনের ছায়া!
১৯৯১ সালে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তখনকার সময়কার কিছু ভুল পদক্ষেপ আজও ইতিহাসে আলোচিত। ৩৪ বছর পর সেই একই ধরনের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে জগতে তুঙ্গে জল্পনা চলছে—“আমেরিকার পতন কি আসন্ন?”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি ও অর্থনীতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ, বিদেশি পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব, আফগানিস্তানে ফের সামরিক হুঙ্কার—এই সবকিছু ১৯৯১ সালের সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
সোভিয়েত পতনের মূল কারণ ছিল অর্থনীতি। আর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কিছুই কম নয়। চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জাতীয় ঋণ পৌঁছে গেছে ৩৭ লক্ষ কোটি ডলারে। ঋণের এই বোঝা শুধু সরকারের নয়, সাধারণ মানুষের উপরও চাপ তৈরি করছে। ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ঋণ ১.৮ লক্ষ কোটি ডলার, যার মধ্যে অনেকেই তা শোধ করতে পারছে না। এছাড়া দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৩ শতাংশ রাস্তা খারাপ অবস্থায়, বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষা বিশ্বে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। দেশে বাড়ছে আত্মহত্যা, অপরাধ এবং চরমপন্থা।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ উইম নাউড সোভিয়েতের সঙ্গে তুলনা করে সাতটি প্রধান কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পতনের ঝুঁকি দেখিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ-অর্থনীতি, ব্যয়বহুল সামরিক অভিযান, উচ্চ ঋণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক ও শিল্প উৎপাদনে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা। উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তান যুদ্ধ: ২০ বছরে ৮ লক্ষ কোটি ডলার খরচ, কিন্তু এক টাকাও ফেরত আসেনি। এছাড়া ইউক্রেন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের ব্যয়ও বিশাল।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যদি ট্রাম্প আফগানিস্তান বা অন্যান্য দেশগুলোতে নতুন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, বিশ্বে ডলারের প্রাধান্য হুমকির মুখে। ভারত, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন শুরু করেছে। সৌদি আরব ডলারে সোনা বিক্রির চুক্তি থেকে বেরিয়েছে। ফলে মার্কিন অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডার এবং প্রযুক্তিগত শক্তি রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক বিপর্যয় আসলেও, সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সম্পূর্ণ পতন হবে না। এর মধ্যেও ঝুঁকি থাকায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ, যেমন অভ্যন্তরীণ শিল্পকে বাঁচাতে শুল্ক আরোপ এবং বিদেশি পণ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংক্ষেপে, ইতিহাসের ছায়া স্পষ্ট। সোভিয়েত পতনের মতো ঝুঁকি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আছে, তবে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই পরীক্ষার মূল চাবিকাঠি।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা