সোনার কেল্লা vs যকের ধন!
‘সোনার কেল্লা’ বাঙালির কাছে শুধু একটা সিনেমা নয়, এক আবেগ। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা, তোপসে আর লালমোহন গাঙ্গুলীর জঙ্গলের উটে চড়ে মরুভূমি পেরোনো অ্যাডভেঞ্চার যেন আজও মনে গেঁথে আছে ছোটবেলার সেই রঙিন দিনগুলোর মতো। ঠিক সেই আবেগেই ভর করে সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ছবি ‘সোনার কেল্লায় যকের ধন’ দেখে ফেললেন বহু দর্শক। কিন্তু পুরোনো নস্টালজিয়াকে ছুঁয়ে দেখা গেলেও, রহস্যের জালটা যেন এইবার খানিক ঢিলে।
পুরোনো চরিত্রে নতুন মোড়
ছবির শুরুতেই আমরা দেখতে পাই সেই ছোট্ট মুকুল, এখন তিনি মুকুলবাবু (অভিনয়ে সুপ্রভাত দাস), একজন বই বিক্রেতা কলেজ স্ট্রিটে। একদিন কিছু দুষ্কৃতীর তাড়া খেয়ে দুর্ঘটনাবশত পৌঁছে যান বিমল (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) ও কুমার (গৌরব চক্রবর্তী)-এর গাড়ির সামনে। তারাই উদ্ধার করে নিয়ে যায় তাঁকে ডক্টর রুবি (কোয়েল মল্লিক)-র বাড়ি। এখানেই জানা যায়, কিছু অজানা শক্তি মুকুলবাবুকে তাঁর পূর্বজন্মের স্মৃতি ফিরিয়ে দিতে চাইছে। উদ্দেশ্য? সোনার কেল্লার গোপন চোরাকুঠুরিতে লুকিয়ে থাকা পরশপাথর, যার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সেই স্মৃতির গভীরে।
রহস্য, রোমাঞ্চ, আর কিছু প্রশ্নচিহ্ন
এরপর আমাদের চেনা জুটি ও ডক্টর রুবি পৌঁছে যান জৈসলমিরে। সেখানে শুধু তাঁরাই নন, আরও কিছু চরিত্র হাজির যাঁরা সেই পরশপাথরের খোঁজে মরিয়া। ছবির প্রথমভাগ কিছুটা ধীর হলেও দ্বিতীয়ার্ধে গতি আসে। রহস্য মোড় নেয়, গল্প এগোয়। কিন্তু ঠিক তখনই গল্পের ছন্দপতন। হঠাৎ করেই বেরিয়ে আসে মুকুলবাবু ও রুবির ‘পূর্বজন্মের সম্পর্ক’। আর এখানেই যেন গল্পের গরু গাছে চড়ে বসে।
ছবির পরিণতিতে অসংখ্য প্রশ্ন রেখে যায় দর্শকের মনে। শিবমন্দির থেকে ধান্যলক্ষ্মীর দরজায় পৌঁছনোর রাস্তা কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত? রাত থেকে সকাল হয়ে গেল সুড়ঙ্গের ভেতরে! আর জলবিহীন কুয়োয় হঠাৎ পরশপাথরের ছোঁয়ায় জল বেরনো—যদিও দর্শনীয়, বাস্তবতা অনেকটাই গায়েব।
নস্টালজিয়া বনাম নতুনতা
চিত্রনাট্যে দুর্বলতা থাকলেও, ক্যামেরার কাজ ও লোকেশন নির্বাচন প্রশংসার যোগ্য। রাজস্থানের মরুভূমি, জৈসলমিরের প্রাচীনতা—সব কিছুই চোখে ভালো লাগে। তবে সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’র সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয়, এই ছবি আবেগের সুযোগ নিলেও, সেই মান ধরে রাখতে পারেনি।
তবে একে সম্পূর্ণ খারাপ বলা যায় না। বিশেষ করে ছোটদের কাছে এটি রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে। আর বড়দের ক্ষেত্রে? ছবি দেখে ফের একবার পুরোনো ‘সোনার কেল্লা’ চালিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটাই হয়তো জয়ী হয়।
আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!