সোনারপুরে যকৃতের অসুখ
যকৃতের রোগ নির্ণয়, নিরাময় এবং এর কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে একটি উন্নত গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে সোনারপুরে। এই গবেষণা কেন্দ্রটি তৈরি করেছে ‘লিভার ফাউন্ডেশন’, যা আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হবে। এ ধরনের গবেষণা কেন্দ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।
গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন
বুধবার সোনারপুরে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব লিভার ডিজিজ অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেস’ (আইআইএলডিএস)-এর চত্বরে এই গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। কেন্দ্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন সি মার্টিন সেন্টার ফর লিভার রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনস’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যানসার-শল্য চিকিৎসক আর রবিকান্নান, ‘গিলিয়েড সায়েন্সেস’-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান জন সি মার্টিনের স্ত্রী লিলিয়ান লু, এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রখ্যাত চিকিৎসক ও গবেষক।
বিনিয়োগ নয়, মানবিক উদ্যোগ
গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী জানান, এটি কোনও ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়। জন সি মার্টিনের মতো মহান ব্যক্তিত্বের মানবিক অনুদানে এটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে মূলত পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের স্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপটে যকৃতের রোগ নিয়ে গবেষণা করা হবে। এছাড়াও শিক্ষাদান ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণও চলবে।
আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘আইআইএলডিএস’ তৈরিতে প্রথম সহযোগিতা করেন জন সি মার্টিন। এবার তাঁর সংস্থা এই গবেষণা কেন্দ্রের উন্নয়নে ৭৫ লক্ষ ডলার অনুদান দেবে। আগামী ছয় বছরে ধাপে ধাপে এই অর্থ প্রদান করা হবে। লিলিয়ান লু বলেন, “যকৃতের উন্নত চিকিৎসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ অনন্য।”
গবেষণার লক্ষ্য
গবেষণা কেন্দ্রটি যকৃতের বিরল রোগ, একক কোষ সিকোয়েন্সিং, এবং প্রাথমিক স্তরে গলব্লাডার ক্যানসার শনাক্তকরণের মতো উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর কাজ করবে। অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে বীরভূমের ৩৫১টি গ্রামে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ পেটের রোগে ভুগছেন।
স্থূলতা ও মদ্যপান—একটি বড় সমস্যা
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অনেক মানুষ যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অভিজিৎ বলেন, “এ ধরনের রোগীদের আলাদা চোখে না দেখে তাদের জন্য চিকিৎসার উপায় বের করা জরুরি।”
উন্নত গবেষণার প্রত্যাশা
এই কেন্দ্র যকৃতের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের গবেষণা কেন্দ্র ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।