আমেরিকা-চিন থেকে আফগানিস্তান!
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত, আর সেই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় পাকিস্তান। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলেও, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের পুরনো সুনাম নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অভিজ্ঞতা কি ইরান-সংকটেও কাজে লাগাতে পারবে পাকিস্তান?
সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকে মুখোমুখি বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance এবং ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। উভয় পক্ষই ব্যর্থতার দায় একে অপরের উপর চাপিয়েছে।
তবুও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের দক্ষতা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইতিহাস তার সাক্ষী। ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সময় মার্কিন কূটনীতিক Henry Kissinger-এর গোপন বেজিং সফরের পথ সুগম করেছিল ইসলামাবাদই। পরে Richard Nixon-এর চিন সফরের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
শুধু তাই নয়, আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও বারবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়ে আফগান মুজাহিদিনদের সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আবার ২০০১ সালের পর আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময়ও পাকিস্তান লজিস্টিক সহায়তা দেয়। এমনকি তালিবান ও আমেরিকার মধ্যে দোহা চুক্তিতেও মধ্যস্থতা করেছিল তারা।
তবে এই ‘সেতুবন্ধন’ নীতির অন্ধকার দিকও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বহু ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের এই কৌশল নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক সুবিধা আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পর্কগুলো টেকসই হয়নি। যেমন, আজকের দিনে আমেরিকা-চিন সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ, আর আফগানিস্তানেও তালিবান শাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের।
ইরানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। কারণ এখানে শুধু আমেরিকা নয়, ইজ়রায়েলের মতো শক্তিশালী পক্ষও জড়িত। উপরন্তু, তেহরানের নিজস্ব কৌশল ও আঞ্চলিক প্রভাবও ব্যাপক। ফলে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা সফল হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
তবে পাকিস্তান এখনও হাল ছাড়েনি। সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী Ishaq Dar স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও ইরান-আমেরিকা সংলাপে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। সেনাপ্রধান Asim Munir-এর ভূমিকাও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের ‘মধ্যস্থতার রাজনীতি’ একদিকে যেমন সুযোগ তৈরি করে, তেমনই ঝুঁকিও বহন করে। অতীতের সাফল্য সত্ত্বেও, ইরান-আমেরিকা সংঘাতে তারা কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?