সূর্য থেকে ধেয়ে আসছে হানাদারের দল! বিপদে পৃথিবীর উপগ্রহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

সূর্য থেকে ধেয়ে আসছে হানাদারের দল! পৃথিবী একদম শুরু থেকেই সৌর হানাদারদের আক্রমণ ঠেকিয়ে আসছে। প্রতি বছরেই সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা শক্তিশালী সৌরঝলক আমাদের গ্রহের দিকে ধেয়ে আসে। এই সৌরঝলকগুলির…

January 30, 2025
1 min read

সূর্য থেকে ধেয়ে আসছে হানাদারের দল!

পৃথিবী একদম শুরু থেকেই সৌর হানাদারদের আক্রমণ ঠেকিয়ে আসছে। প্রতি বছরেই সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা শক্তিশালী সৌরঝলক আমাদের গ্রহের দিকে ধেয়ে আসে। এই সৌরঝলকগুলির ফলে আমাদের পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা কখনও কখনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, এমনকি উপগ্রহগুলির উপরেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এবারে, নাসা ২০২৫ সালে আরও একটি ভয়াবহ সৌরঝলক আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই সৌরঝলকের কারণে পৃথিবী আরও বড় বিপদে পড়তে পারে।

সূর্য থেকে প্রায় ৯ কোটি মাইল দূরে অবস্থানরত এই শক্তিশালী সৌরঝলক প্রতি দিন পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলির দিকে ছুটে আসে। এর কারণে সূর্যের অন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা সৌরঝড় হিসেবে পরিচিত। সাধারণত সূর্যের পৃষ্ঠে কোনও বিস্ফোরণের ফলে এই বিপুল শক্তি মহাকাশে প্রবাহিত হয়, এবং এর প্রভাব পড়ে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলির বায়ুমণ্ডলে।

বর্তমানে পৃথিবীর কাছাকাছি সৌরঝলক আসা শুরু হয়েছে এবং এর তীব্রতা আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সূর্য তার ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’ বা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে, যার ফলে সৌরঝড়ের দাপট বৃদ্ধি পাবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে সৌরঝলকের প্রকোপের প্রভাব মানুষ অনুভব করতে শুরু করেছে।

যখন সূর্য থেকে এই শক্তিশালী কণা পৃথিবীর দিকে আসে, তখন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলিকে কিছুটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, বিশেষত উত্তর মেরু অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্র। কিন্তু, কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এই কণাগুলির সংঘর্ষে মেরুজ্যোতি বা অরোরার সৃষ্টি হয়। এসব কণা কখনও কখনও পৃথিবীর উপগ্রহগুলির সাথে সংঘর্ষে গিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিতে পারে।

এ ধরনের সৌরঝলকগুলির বিপদ সবচেয়ে বেশি উপগ্রহগুলির জন্য। উপগ্রহগুলি যখন সৌরঝলকের আঘাতে পড়তে পারে, তখন তা খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যে উপগ্রহগুলির মাধ্যমে আমাদের জিপিএস, ভূপর্যবেক্ষণ, এবং মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করে, সেগুলির কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত হতে পারে। কৃত্রিম উপগ্রহগুলি প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে, যার ফলে বিপদও বাড়তে পারে।

বিশ্বের নানা জায়গায় যেমন ভারতীয় উপমহাদেশ, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ মেরুতে রেডিয়ো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সৌরঝলকের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এক ধরনের শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হতে পারে, যা পৃথিবীজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

এমন একটি বিপদ ঘটলেই আমরা ১৮৫৯ সালের ‘ক্যারিংটন ইভেন্ট’-এর কথা মনে করতে পারি। সেই সময় সৌরঝড়ের কারণে টেলিগ্রাফ সিস্টেম পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল, এবং কিছু মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর অনেক অংশে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এখন বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে যদি ২০২৫ সালে আসা সৌরঝলক পৃথিবীকে ব্যাপকভাবে আঘাত করে।

সর্বোপরি, আগামী কয়েক বছরে সৌরঝলকগুলির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবী আবারও এক নতুন ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে পারে। বিশ্ববাসীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

শ্রীদেবী-কন্যা খুশি কপূরের বদলে যাওয়া মুখ, নাক, ঠোঁটের গড়ন: অস্ত্রোপচারের গল্প নিজেই শেয়ার করলেন!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *