সূর্যজগতেরও আগে জন্ম?
গত সপ্তাহে মহাকাশে এক রহস্যময় বস্তু নজরে এসেছে বিজ্ঞানীদের। প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনও গ্রহাণু ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বিশ্লেষণ করতে গিয়েই উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য—এটি আসলে এমন এক ধূমকেতু হতে পারে, যা সূর্যজগতেরও আগে জন্মেছিল! এই দাবি সামনে আসতেই বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীমহলে শুরু হয়েছে উত্তেজনা ও নতুন গবেষণার তোড়জোড়।
এই রহস্যময় বস্তুটির দিকে প্রথম নজর পড়ে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের। এর গঠন ও রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করতে গিয়েই ধরা পড়ে, এটি প্রচলিত ধূমকেতুর চেয়েও অনেক বেশি পুরোনো। সাধারণত ধূমকেতুতে বরফ, ধুলো ও নানা ধরনের গ্যাস থাকে। কিন্তু এই বস্তুটির মধ্যে এমন সব মৌলিক উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যা সূর্যজগতের জন্মেরও আগে তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা।
নাসার বিজ্ঞানী টমাস জারবুচেন জানিয়েছেন, “এটা এমন এক ধূমকেতু হতে পারে, যা আমাদের সৌরজগতের সৃষ্টির অন্তত কয়েকশো কোটি বছর আগেই তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের বস্তু সাধারণত ইন্টারস্টেলার স্পেস বা আন্তঃনাক্ষত্রিক অঞ্চলে ঘোরাফেরা করে। আমাদের গ্রহমণ্ডলের মধ্যে এমন কিছু দেখা একেবারেই বিরল।”
এর আগে ২০১৭ সালে ওউমুয়ামুয়া নামে আরেকটি ইন্টারস্টেলার বস্তু দেখা গিয়েছিল, যেটিকে নিয়ে অনেক ধন্দ তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন এই ধূমকেতুটি ওউমুয়ামুয়া-র তুলনায় আকারে অনেক বড় এবং গঠনে আরও জটিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এর গঠনমূলক উপাদান বিশ্লেষণ করলে মহাবিশ্বের আদিম ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে।
কীভাবে এত পুরোনো ধূমকেতু এখানে এল? গবেষকরা মনে করছেন, এটি কোনও সুদূর নক্ষত্রমণ্ডল থেকে ভেসে এসেছে। বহু কোটি বছর আগে কোনো বৃহৎ মহাজাগতিক ঘটনার জেরে সেটি নিজের কক্ষপথ থেকে ছিটকে গিয়ে অবশেষে আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করেছে।
এ ধরনের ইন্টারস্টেলার ধূমকেতু নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এগুলির মধ্যে থাকা রাসায়নিক গঠন ও বরফের ধরন দেখে বোঝা যায়, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে কেমন পরিবেশ ছিল। এ ক্ষেত্রে নতুন ধূমকেতুটি মহাবিশ্বের বয়স, উপাদান ও বিকাশ সম্পর্কে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন এই ধূমকেতুর গতি-পর্যবেক্ষণ ও আরও বিশদ তথ্য সংগ্রহে নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি যৌথভাবে কাজ করছে। তাদের পরিকল্পনা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই ধূমকেতু ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করার।
বিজ্ঞানীরা অবশ্য সতর্কভাবে বলছেন, এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এটি সত্যিই সূর্যজগতের জন্মের আগের ধূমকেতু কি না। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
মহাকাশপ্রেমীদের কাছে এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর। সূর্যজগতের সীমানা ছাড়িয়ে এমন রহস্যময় বস্তু বারবার দেখা যায় না। তাই চোখ এখন বিজ্ঞানীদের নতুন রিপোর্টের দিকেই। যদি সত্যিই প্রমাণিত হয়, এটি মহাবিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধূমকেতু, তবে তা হতে চলেছে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।
বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?