বক্স অফিসে ‘ধূমকেতু’র ঝলক, হৃতিক-রজনীকান্তের সাঁড়াশি চাপে কি টিকে গেল দেব-শুভশ্রী?

হৃতিক-রজনীকান্তের সাঁড়াশি চাপে কি টিকে গেল দেব-শুভশ্রী? একদিকে হৃতিক রোশনের ঝাঁঝালো অ্যাকশন-থ্রিলার ‘ওয়ার ২’, অন্যদিকে দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তের ‘কুলি’—দু’দিক থেকে চাপ সামলাতে হচ্ছে টলিউডের *‘ধূমকেতু’*কে। স্বাধীনতা দিবস আর জন্মাষ্টমীর ছুটিকে…

August 18, 2025
1 min read

হৃতিক-রজনীকান্তের সাঁড়াশি চাপে কি টিকে গেল দেব-শুভশ্রী?

একদিকে হৃতিক রোশনের ঝাঁঝালো অ্যাকশন-থ্রিলার ‘ওয়ার ২’, অন্যদিকে দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তের ‘কুলি’—দু’দিক থেকে চাপ সামলাতে হচ্ছে টলিউডের *‘ধূমকেতু’*কে। স্বাধীনতা দিবস আর জন্মাষ্টমীর ছুটিকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে তিনটি বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পেয়েছে। ফলে সিনেমাহলগুলোতে এখন জমজমাট লড়াই। প্রশ্ন উঠছে, কে এগিয়ে বাণিজ্যে? দর্শক টানার দৌড়ে কার দাপট বেশি?

দক্ষিণ কলকাতার হলগুলোতে ঝড় তুলেছে ‘ধূমকেতু’

নবীনা সিনেমাহলে একসঙ্গে চলছে ‘ধূমকেতু’ এবং ‘কুলি’। সাধারণত এখানে দিনে চারটি শো হয়। কিন্তু দেব-শুভশ্রীর ছবি দর্শকের বিপুল চাহিদার কারণে একটি শো বাড়াতে হয়েছে। এখন পাঁচটি শো-এর মধ্যে তিনটিই ‘ধূমকেতু’র দখলে। হলমালিক নবীন চৌখানি জানালেন, মুক্তির পর প্রথম তিন দিনেই ছবিটি ৮ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের তিনটি শো-ই ছিল হাউসফুল। অন্যদিকে, রজনীকান্তের *‘কুলি’*ও ভালোই চলেছে। মাত্র তিন দিনে আয় করেছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। নবীনের মতে, এই সাফল্যের পর ‘কুলি’ আরও শো পাবে, তবে ‘ধূমকেতু’র অবস্থান অটল।

উত্তর কলকাতায়ও ‘ধূমকেতু’র রাজত্ব

উত্তর কলকাতার বিনোদিনী থিয়েটারে ‘ধূমকেতু’ চলছে চারটে শো-তেই। প্রতিটি শো-ই হাউসফুল, জানালেন হলমালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। যদিও তিনি আয়ের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করতে চাননি, তবু স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। তাঁর মতে, এই সফলতার পিছনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলা ছবির জন্য প্রতিদিন প্রাইম টাইমে অন্তত একটি শো চালানোর নির্দেশ যে নিয়মিত দর্শক তৈরি করেছে, সেটাই এবার বড় ফায়দা দিচ্ছে।

‘ওয়ার ২’-এর লড়াই, তবে কেন্দ্রবিন্দুতে টলিউড

প্রাচী সিনেমাহলে অবশ্য অন্য ছবি। এখানে হৃতিকের ‘ওয়ার ২’ পাচ্ছে তিনটি শো, আর প্রাইম টাইম শো বরাদ্দ হয়েছে ‘ধূমকেতু’র জন্য। হলের কর্ণধার বিদিশা বসু জানিয়েছেন, যদিও হৃতিকের ছবিতে তরুণ প্রজন্ম ভিড় করছে, তবুও দেব-শুভশ্রীর ছবিতে আসছেন সব বয়সের দর্শক। বিশেষত মহিলাদের সংখ্যা বেশি। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে বাংলার মাটিতে রাজত্ব করছে ‘ধূমকেতু’। শো প্যাটার্ন ভাঙার কোনও ইচ্ছেই নেই আমাদের।”

দর্শক না ফ্যান ক্লাব—কে ভরসা?

বাংলা ছবির সাফল্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল, এগুলো কি শুধুই ফ্যান ক্লাবের দাপট, নাকি সত্যিই দর্শক টানতে পারছে ছবিগুলো? এবারের ছুটির মরশুম যেন তার জোরালো উত্তর দিচ্ছে। শুধু দেব-শুভশ্রীর ভক্ত নয়, সাধারণ দর্শকও ভিড় জমাচ্ছেন হলে। ফলে বলা যায়, হৃতিক-রজনীকান্তের তারকাখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও টলিউডের ‘ধূমকেতু’ একাই ধরে রেখেছে নিজের আসন।

বাংলা ছবির পক্ষে এই মুহূর্ত নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। একদিকে ফ্যান ক্লাবের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে সব বয়সি দর্শকের ভরসা—এই দুই শক্তিই বক্স অফিসে *‘ধূমকেতু’*কে দিচ্ছে অদম্য গতি। তবে সামনে আরও দিন বাকি। শেষ হাসি কে হাসবে, তা সময়ই বলবে।

মুম্বই বিমানবন্দরে অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ইন্ডিগো বিমানের যাত্রীরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *