সুরুচি সঙ্ঘকে এলআইসির নোটিস!
কলকাতার অন্যতম পরিচিত দুর্গাপুজো উদ্যোক্তা সংগঠন সুরুচি সঙ্ঘ-কে জমি খালি করার নির্দেশ দিল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি)। অভিযোগ, নিউ আলিপুরে সংস্থার প্রায় ২১ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে ক্লাবের কার্যক্রম এবং দুর্গাপুজোর আয়োজন চলছিল।
এলআইসির পক্ষ থেকে জারি করা নোটিসে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি খালি করতে হবে। নির্দেশ না মানলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। জমির দেওয়ালে নোটিস টাঙিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
কেন বিতর্ক?
সুরুচি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ। ক্লাবটির সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস-এর নাম জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এই পুজো ‘বিশ্বাস ব্রাদার্সের পুজো’ হিসেবেও পরিচিত ছিল।
এলআইসির দাবি, একাধিকবার জমি ফেরত চাওয়া হলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি। সেই কারণেই সংস্থাটি পুলিশের দ্বারস্থ হয় এবং পরবর্তীতে উচ্ছেদের নোটিস জারি করা হয়।
সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ক্লাব
গত কয়েক মাসে সুরুচি সঙ্ঘকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। তাঁর গ্রেফতারির পর ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং পোস্টার-হোর্ডিং ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটে।
এক মহিলার অভিযোগ ছিল, ব্যবসার অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে তাঁকে সুরুচি সঙ্ঘে একা দেখা করতে বলা হয়েছিল। সেই অভিযোগও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
দুর্গাপুজোর উপর প্রভাব পড়বে?
এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জমি খালি করার নির্দেশ কার্যকর হলে এ বছরের সুরুচি সঙ্ঘের দুর্গাপুজোর আয়োজন কীভাবে হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিসের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে গড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি পুজোগুলির মধ্যে সুরুচি সঙ্ঘের নাম বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে এই জমি-বিতর্ক শুধু একটি ক্লাবের প্রশাসনিক সমস্যা নয়, শহরের অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?