সিএবি নির্বাচনের নথি পাঠানো নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ক্যুরিয়র সংস্থার দুই কর্তা-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

সিএবি নির্বাচনের নথি পাঠানো নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ! সিএবির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত। বিভিন্ন ক্লাবে নির্বাচনী নথি পাঠানো নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে এ বার এফআইআর করল পুলিশ।…

September 15, 2026
1 min read

সিএবি নির্বাচনের নথি পাঠানো নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ!

সিএবির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত। বিভিন্ন ক্লাবে নির্বাচনী নথি পাঠানো নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে এ বার এফআইআর করল পুলিশ। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে একটি বেসরকারি ক্যুরিয়র সংস্থার দুই কর্তা-সহ আরও কয়েক জন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর ময়দান থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সদস্য গৌতম দে-র অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তাঁর দাবি ছিল, সিএবির নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নথি কয়েকটি ক্লাবের নথিভুক্ত ঠিকানায় না পাঠিয়ে অন্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই কাজে সিএবির এক শ্রেণির কর্তার সঙ্গে ক্যুরিয়র সংস্থার কিছু কর্মী যোগসাজশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এফআইআরে ক্যুরিয়র সংস্থার অর্ঘ্য দাস এবং শুভম বক্সীর নাম রয়েছে। অর্ঘ্য ওই সংস্থার চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট এগ্‌জ়িকিউটিভ এবং শুভম তারাতলা গোপালপুর শাখার ম্যানেজার বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাচক্রে, সংশ্লিষ্ট ক্যুরিয়র সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের পরিধি শুধু ক্যুরিয়র সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গৌতমের অভিযোগ অনুযায়ী, সিএবির কয়েক জন কর্তার বিরুদ্ধেও সন্দেহের কথা উঠে এসেছে। তদন্তের প্রয়োজনে মঙ্গলবার সকালে সিএবির সদর দফতরেও গিয়েছিল তদন্তকারী দল।

অভিযোগে মূলত ক্যুরিয়র কনসাইনমেন্ট নম্বর এবং ডেলিভারি রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এফআইআরে বলা হয়েছে, কয়েকটি ভুয়ো কনসাইনমেন্ট নম্বর তৈরি করে সেগুলিকে আসল হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই নম্বরগুলির কোনও ট্র্যাকিং ইতিহাস ক্যুরিয়র সংস্থার পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ।

গৌতমের দাবি, পাঁচটি অনুমোদিত ক্লাবের নির্বাচনী নথি পাঠানোর ক্ষেত্রেই এমন অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাঁচটি পৃথক বুকিং রসিদের পরিবর্তে একটি রসিদ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি পরে একই কনসাইনমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে কিছু নথি ফের পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ছাড়াও ওয়াইএমসিএ এবং ফ্রেন্ডস স্পোর্টিংয়ের নাম রয়েছে অভিযোগে। স্টার স্পোর্টিং ক্লাব অবশ্য সংশ্লিষ্ট ক্যুরিয়র সংস্থার দফতর থেকে নিজেদের নথি নিয়ে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্য দিকে, সিএবির এক কর্তা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ক্লাব এজিএমের ফর্ম জমা দিয়েছে এবং সব ক্লাবের নথিই নিয়ম মেনে পাঠানো হয়েছে। সিএবির সচিব বাবলু কোলে আগেই জানিয়েছিলেন, সিএবির কাছে নথিভুক্ত ঠিকানাতেই সমস্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং তার প্রমাণও রয়েছে।

অভিযুক্ত ক্যুরিয়র সংস্থার কর্তা অর্ঘ্য দাসও দাবি করেছেন, তাঁরা সিএবির নির্দেশ মেনেই কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা ক্যুরিয়র সংস্থা। আমাদের কাজ বিভিন্ন জিনিস ডেলিভারি করা। সিএবি থেকে আমাদের যেরকম বলা হয়েছিল, সেই নির্দেশ মেনেই আমরা কাজ করেছি।’’

মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জালিয়াতি, প্রতারণা, জাল নথিকে আসল হিসাবে ব্যবহার, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

এর মধ্যেই আরও একটি প্রশ্ন উঠছে সিএবি নির্বাচন নিয়েই। কয়েকটি জেলার জেলাশাসক ইতিমধ্যেই প্রতিনিধিদের বয়স এবং দীর্ঘ মেয়াদ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। ফলে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কবে হবে, আর তার আগে নথি পাঠানো নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *