সিএবি কর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি!
বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনে ফের বিতর্ক। ভিন্রাজ্যের কয়েক জন ক্রিকেটারকে জাল নথি ও ভুয়ো আবাসিক প্রমাণপত্রের মাধ্যমে বেআইনি ভাবে বাংলার হয়ে খেলানোর অভিযোগ উঠেছে Cricket Association of Bengal-এর ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান দেবীপ্রসন্ন পাড়ির বিরুদ্ধে। অভিযোগটি পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী Indranil Khan-এর কাছে তথ্যপ্রমাণ-সহ জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য, সন্দেহজনক আবাসিক শংসাপত্র, ভুয়ো ঠিকানা এবং জাল নথি ব্যবহার করে অন্তত ছয় জন ভিন্রাজ্যের ক্রিকেটারকে সিএবি পরিচালিত প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাগত কুমার ঝা (ঝাড়খণ্ড), অভিশান্ত বক্সী (জম্মু ও কাশ্মীর), অনিল কুমার ওরফে অনিল তোমার (হরিয়ানা), সুধাংশু সিংহ (উত্তরপ্রদেশ), মাবরুক আহমেদ (উত্তরপ্রদেশ) এবং সানি কুমার পণ্ডিত। অভিযোগপত্রে তাঁদের সিএবি রেজিস্ট্রেশন নম্বরও সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ‘এ অ্যান্ড এস ক্রিকেট অ্যাকাডেমি’-র মাধ্যমে এই অনিয়ম হয়েছে। ওই অ্যাকাডেমির সঙ্গে দেবীপ্রসন্ন পাড়ির যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর অ্যাকাডেমি এবং সহযোগী ক্লাবগুলির মাধ্যমেই কয়েক জন ক্রিকেটারের বেআইনি নথিভুক্তি হয়েছে বলে দাবি।
অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, গত দু’বছরে এই বিষয়ে একাধিকবার সিএবি, Board of Control for Cricket in India-এর সচিব এবং পুলিশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু ক্রীড়া প্রশাসনের অনিয়ম নয়, ভুয়ো পরিচয় ও জাল নথি ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পাঠানো অভিযোগে তিনটি বিষয়ে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে—
- সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের বয়স ও আবাসিক নথির সত্যতা যাচাই।
- দেবীপ্রসন্ন পাড়ি এবং অন্য সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার তদন্ত।
- অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিএবি কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা।
অন্য দিকে, দেবীপ্রসন্ন পাড়ি অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগকারীর ছেলে তাঁর অ্যাকাডেমিতে অনুশীলন করলেও শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে ভর্তি-সংক্রান্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই অভিযোগ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এর পাল্টা জবাবে অভিযোগকারী বলেন, যদি তাঁর ছেলে অযোগ্যই হয়ে থাকে, তা হলে তাকে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয়েছিল কেন, জার্সি দেওয়া হয়েছিল কেন এবং দলে রাখা হয়েছিল কেন? তাঁর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলের বদলে অর্থের বিনিময়ে ভিন্রাজ্যের ক্রিকেটারকে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়।
এখন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না এবং সিএবি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?