সিঁদুর অভিযানের পাঠে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা!
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে গত এক দশকে যে ধারাবাহিক সংস্কার হয়েছে, তারই বাস্তব ফল মিলেছে ‘সিঁদুর অভিযান’-এ— এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশকে সব সময় প্রস্তুত রাখা জরুরি, আর সেই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
আগামী অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে— যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, সব মন্ত্রকের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ কি সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতার ফল? এই প্রশ্নের জবাবে মোদী বলেন, এটি কোনও একক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “প্রথম দিন থেকেই আমাদের সরকারের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা। গত ১০ বছরে যে আধুনিকীকরণ হয়েছে, তার সুফলই আমরা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে দেখেছি।”
তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ১.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা রাখা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম উন্নয়নের জন্য। তিন বাহিনীর মূলধনী ব্যয়ে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২.২ লক্ষ কোটি টাকা, যার বড় অংশই দেশীয় সংস্থা থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য নির্ধারিত। এর মাধ্যমে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। খুব শিগগিরই ভারত সফরে আসছেন ইমানুয়েল মাক্রোঁ। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি ফ্রান্স থেকে আরও রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে বিরোধীরা এই বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, অর্থনীতির নানা সমস্যার মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত জোর দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্য, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিশ্বজুড়েই সাধারণ প্রবণতা। ভারতের ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন এবং দ্রুত প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ।
সব মিলিয়ে, সরকারের মতে এই বাজেট শুধু সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য নয়— বরং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই