সাহিলের মৃত্যুতে বিবৃতি নিয়ে ক্ষমা আইআইটি বম্বের, সাসপেন্ড অধ্যাপক

সাহিলের মৃত্যুতে বিবৃতি নিয়ে ক্ষমা আইআইটি বম্বের পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের…

September 21, 2026
1 min read

সাহিলের মৃত্যুতে বিবৃতি নিয়ে ক্ষমা আইআইটি বম্বের

পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের দেহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে আইআইটি বম্বের ভূমিকা নিয়ে। এ বার সেই বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের আগের বিবৃতির জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে সাহিলকে পরীক্ষার হলে নজরদারির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে আইআইটি বম্বে জানায়, সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আগের বিবৃতিতে যে মন্তব্যগুলি করা হয়েছিল, তার জন্য তারা দুঃখিত। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সাহিলের মৃত্যুর তদন্ত এখনও চলছে। তাই মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করা উচিত হয়নি।

সাহিলের মৃত্যুর পর দেওয়া আগের বিবৃতিতে আইআইটি বম্বে জানিয়েছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকেছিলেন ওই পড়ুয়া। অভিযোগ ছিল, মোবাইল থেকে চ্যাটজিপিটি খুলে প্রশ্নপত্রের ছবি বা বিষয়বস্তু আপলোড করে উত্তর সংগ্রহ করছিলেন তিনি। সেই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের নজরে বিষয়টি আসে। পরে বিভাগীয় প্রধানও সাহিলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই ঘটনার কারণে তাঁর পড়াশোনা বা কেরিয়ারে কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে না বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাহিলের দেহ হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু করেন পড়ুয়ারা। ১৮ দফা দাবি নিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভও শুরু হয়। রবিবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।

সেই দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল, সাহিলের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যের জন্য আইআইটি বম্বেকে ক্ষমা চাইতে হবে। সেই দাবি মেনে নিয়ে কর্তৃপক্ষ আগের বিবৃতি প্রত্যাহারের মতো অবস্থান নেয় এবং দুঃখপ্রকাশ করে।

পাশাপাশি, সাহিলকে পরীক্ষার হলে নজরদারির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁকে জাত তুলে হেনস্থা করা হয়েছিল। অধ্যাপকের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ বি কেদারে জানিয়েছেন, সূর্যনারায়ণকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।

পড়ুয়াদের আরও দাবি, সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি অধ্যাপকদের আচরণবিধি, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থার উন্নতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিত্ব এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের দাবিও উঠেছে।

সাহিলের বাবা-মা আইআইটি বম্বের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইনে এফআইআরও হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার বর্তমানে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে। ফলে সাহিলের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্তের দিকেই নজর এখন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *