আইআইটি থেকে ‘গুরু’!!
আইআইটি রুরকির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। মেধাবী ছাত্র হিসেবেই ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই শিক্ষাগত পরিচয়কে হাতিয়ার করেই নিজেকে ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগ উঠল ২৯ বছরের অভিষেক মিশ্রের বিরুদ্ধে। তরুণীদের যৌন নিগ্রহ, ব্ল্যাকমেল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ওড়িশার বাসিন্দা অভিষেক গত প্রায় চার বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের মথুরার রাধাকুঞ্জ এলাকায় বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি ‘নারায়ণ দাস’ নামে পরিচিতি তৈরি করেন এবং নিজেকে ধর্মীয় বক্তা বা গল্পকার হিসেবে তুলে ধরেন। স্থানীয়ভাবে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
অভিযোগ, ধর্মীয় উপদেশ ও আধ্যাত্মিকতার মোড়কে তরুণীদের নিজের আশ্রমে ডেকে আনতেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষিত এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করতেন। তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হত বলে অভিযোগ।
জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য অভিষেক ‘রাধা কৃপা অমৃতা’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও চালাতেন। সেখানে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় ধর্মীয় বক্তৃতা দিতেন। পাশাপাশি লিঙ্কডইনে একটি পেশাদার প্রোফাইলের মাধ্যমে নিজেকে শিক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন। তদন্তকারীদের মতে, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিই ছিল তাঁর অনুসারী বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম।
ছত্তীসগঢ়ের এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধর্মীয় আস্থা এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার নামে ভুক্তভোগীদের আশ্রমে ডেকে মগজধোলাই করা হত। পরে তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হত। সেই সব ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিষেক মিশ্র ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইআইটি রুরকিতে পড়াশোনা করেছেন। একটি নামী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্নাতক হওয়ায় তাঁর প্রতি অনেকের স্বাভাবিক বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, যা তিনি নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আরও কত জন তাঁর শিকার হয়েছেন এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না।
পুলিশের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, শিক্ষাগত পরিচয় এবং ধর্মীয় ভাবমূর্তিকে একসঙ্গে ব্যবহার করে কী ভাবে একটি প্রভাববলয় তৈরি করা হয়েছিল, সেই দিকটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?