সরকার বদলালেই কি বদলে যাবে বাংলা সিনেমা-নাটক?
বাংলা থিয়েটার ও সিনেমার পরিচিত মুখ কৌশিক সেন মনে করেন, শুধু রাজনৈতিক পালাবদল হলেই সংস্কৃতি জগতের সমস্যাগুলোর জাদুর মতো সমাধান হবে না। বরং শিল্প, সাহিত্য ও নাটকের উন্নতির জন্য প্রয়োজন আত্মসমালোচনা, চর্চা এবং মানোন্নয়নের আন্তরিক চেষ্টা।
সম্প্রতি তাঁর নতুন নাটক ‘ম্যাকবেথ ২.০’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৌশিক জানান, শেক্সপিয়রের চারশো বছরের পুরনো নাটক আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, ‘ম্যাকবেথ’ আসলে ক্ষমতার লোভ, নৈতিক অবক্ষয় এবং মানসিক বিকারের গল্প। বর্তমান সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে এই বিষয়গুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায় বলেই তিনি নতুনভাবে নাটকটি মঞ্চে এনেছেন।
কৌশিকের কথায়, এই নতুন প্রযোজনায় তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রেশমি সেন মূলত ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথ চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্পটি সাজিয়েছেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দেখানো, কীভাবে ক্ষমতার লোভ মানুষের চিন্তাশক্তিকে গ্রাস করে এবং ধীরে ধীরে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
রাজনৈতিক নাটকের প্রসঙ্গে কৌশিক বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য আজও নাটকে রয়েছে, তবে শুধু বক্তব্য থাকলেই হয় না। শিল্পীর ব্যক্তিগত অবস্থান এবং জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অনেক সময় সুবিধাবাদী মনোভাব শিল্পের ধার কমিয়ে দেয়।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অকপটে বলেন, সব দায় রাজনীতির উপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। গত এক দশকে বাংলা সিনেমার সাফল্য নিয়ে বাস্তব মূল্যায়ন প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমার বর্তমান সংকটের পিছনে শুধু রাজনৈতিক বাধা নয়, চর্চার অভাব, পেশাদারিত্বের ঘাটতি এবং উৎকর্ষের অভাবও দায়ী।
অন্যদিকে, থিয়েটারকে তিনি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে দেখছেন। কারণ থিয়েটার অনেক কম পুঁজিনির্ভর। কৌশিক জানান, তাঁর নাট্যদল ‘স্বপ্নসন্ধানী’ দীর্ঘদিন সরকারি অনুদান ছাড়াই কাজ করে চলেছে এবং তাতেও নাটক মঞ্চস্থ করতে সমস্যা হয়নি।
সমসাময়িক বাংলা রাজনৈতিক নাটকের অভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী নাট্যকারের সংখ্যা কমে গিয়েছে। সেই কারণেই অনেক নির্দেশক এখনও শেক্সপিয়র, ব্রেশট, ইবসেন কিংবা গ্রিক নাটকের দিকে ফিরে যাচ্ছেন। যদিও তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, নতুন নাটক খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে নির্দেশকদেরও আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক নাটক লেখার ক্ষেত্রে ভয় বা বিতর্কের আশঙ্কা কাজ করে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কৌশিক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই তা সত্যি। বিতর্ক এড়াতে অনেকেই রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে থাকেন।
সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল নিয়েও তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি সরকার চলে গিয়ে অন্য সরকার আসলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে— এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তিনি মনে করেন, অকারণ আশাবাদের চেয়ে বাস্তব পরিস্থিতিকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখা বেশি জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কৌশিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যে অবস্থান নিয়েছেন বা যে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তার কোনওটির জন্যই তাঁর অনুশোচনা নেই। তাঁর মতে, শিল্পীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?