‘সরকার কথা রাখুক, না হলে ফের রাস্তায় নামব’!
নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলন আপাতত স্থগিত হলেও সংঘাত যে শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট করে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল সংগঠনটি। তাদের দাবি, নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু দু’দিন কেটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে এখনও ধরপাকড় চলছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকার যদি মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি কার্যকর না করে, তবে আবার ধর্না ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা হবে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক লিখিত চুক্তিই এখন প্রয়োজন।
নিট কেলেঙ্কারির জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পর সংগঠনটি দাবি করেছিল, সরকার তাদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে। সেই দাবির মধ্যে ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার, গ্রেফতারদের মুক্তি এবং প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা।
কিন্তু সিজেপির অভিযোগ, বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা করা হচ্ছে এবং নতুন করে গ্রেফতারও চলছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সৌরভ দাস সমাজমাধ্যমেও দীর্ঘ পোস্ট করে দাবি করেছেন, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং অসমে ছাত্রছাত্রীদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকবে সিজেপি। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের কাছে ভিডিও-সহ অন্যান্য প্রমাণ পাঠানোর আবেদনও করেছেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যে একটি আলাদা ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত আইনজীবী কপিল সিব্বল আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য এক কোটি টাকার তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করেন।
জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও একই সুরে বলেন, সরকার যদি দেওয়া আশ্বাস কার্যকর না করে, তবে নতুন করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে সিজেপি। পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ দিন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাও অভিযোগ করেন, শুধু বিহারেই শত শত আন্দোলনকারী এখনও জেলে রয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার। তবে কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে হিংসা বা ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই উচিত।
এদিকে প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্র সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পেশ করলেও বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের জেরে তা নিয়ে আলোচনা এগোয়নি। একই দিনে সংসদে প্রথমবার হাজির হন সদ্য পদত্যাগী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁকে বিজেপি ও এনডিএ-র সাংসদেরা স্লোগান, শাল ও পাগড়ি পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?