সম্ভলকাণ্ডে তদন্ত কমিটি গঠন
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার শাহি জামা মসজিদে আদালতের সমীক্ষার নির্দেশকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন রাজ্যপাল আনন্দবেন পটেল। লখনউয়ের রাজভবন থেকে জানা গেছে, এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার অরোরা।
সম্প্রতি, সম্ভলের স্থানীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে, শাহি জামা মসজিদ মোগল সম্রাট বাবরের আমলে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি হরিহর মন্দির ভেঙে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯ নভেম্বর মামলাটি দায়ের হওয়ার পরেই, আদালত মসজিদে সমীক্ষার নির্দেশ দেন এবং ১৯ নভেম্বরই প্রথম সমীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে, পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো সমীক্ষা চলাকালে উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ফলস্বরূপ পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় সামাজিক অশান্তি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন এবং তারা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জ়িয়াউর রহমান বর্কের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ উস্কানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে। এই পরিস্থিতিতে, শাহি জামা মসজিদ কমিটি আদালতের সমীক্ষা বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। শুক্রবার, প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চে এই মামলার শুনানির জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির দাবি, ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ধর্মীয় স্থান যেমন মন্দির, মসজিদ বা গির্জার চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। অর্থাৎ, ১৯৪৭ সালের পর, স্বাধীনতা অর্জনের সময় যেভাবে ধর্মীয় স্থানগুলো ছিল, সেভাবেই তাদের অবস্থান রাখতে হবে। শুধুমাত্র অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদকে এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছিল। এর মানে হল যে, যেখানে বর্তমানে একটি মসজিদ রয়েছে, সেখানে মসজিদই থাকবে, এমনকি পূর্বে সেই স্থানটি মন্দির ছিল কিনা সে প্রশ্ন ওঠে না।
সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, যদিও সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির রায় দিয়েছিল, তবে তারা এই আইনের গুরুত্বও মনে করিয়ে দিয়েছিল। আইনটি পাশ করার সময়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসবি চহ্বাণ ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্বের কথা বলেছিলেন। সেই সময়ই এই রায়ের মধ্যে ওই গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর, আরও কিছু ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, ইলাহাবাদ হাই কোর্টের জ্ঞানবাপী মসজিদে সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সেই নির্দেশ স্থগিত করেননি, বরং মসজিদের মধ্যে পূজা করার নির্দেশও দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, শাহি জামা মসজিদ বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থান নিয়ে ভবিষ্যতে আরও মামলা ও বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
এই প্রেক্ষিতে, তদন্ত কমিটি গঠন এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভল কাণ্ডের সঠিক তদন্ত এবং আইনি সিদ্ধান্তের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।