সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে এগিয়ে চলার বার্তা জয়শঙ্করের!
২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের পর থেকে ভারত ও চিনের সম্পর্ক এক দীর্ঘ শীতলতার মধ্য দিয়ে গেছে। সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন দুই দেশকেই কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে এগোচ্ছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক নতুন বার্তা দিলেন— অতীত ভুলে সামনে এগোনোর।
জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানালেন, ভারত একটি সুষ্ঠু, ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর কথায়, বর্তমান সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং তা বৃদ্ধির জন্য বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এশিয়ার মধ্যেই নতুন ধরনের ভারসাম্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি ওয়াং-এর কাছে তুলে ধরেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহে নয়াদিল্লির এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে কেবল অর্থনীতি বা কূটনৈতিক সমীকরণই নয়, উঠে এসেছে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গও। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিষয়ে চিনও আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশ মিলে একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি। এখন প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের প্রতি সমঝোতা। মতভেদ থাকলেও তা যেন কখনও সংঘাত বা প্রতিযোগিতায় রূপ না নেয়।” তাঁর মতে, সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে উভয় পক্ষেরই গঠনমূলক মনোভাব বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে সীমান্ত প্রসঙ্গেও দৃঢ় অবস্থান নেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ছাড়া ভারত-চিন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব নয়। সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করার প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করার বার্তাই তিনি ওয়াংকে দিয়েছেন। মঙ্গলবার ওয়াংয়ের সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের বৈঠকে এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জয়শঙ্কর-ওয়াং বৈঠকের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন অতীতের বিভাজন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা স্পষ্ট, তেমনি অন্যদিকে নতুন সমীকরণের পথও তৈরি হচ্ছে। ইসলামাবাদ সফরের আগে নয়াদিল্লির এই আলোচনায় ভারতের তরফে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছরের শীতলতার পরে ভারত ও চিনের সম্পর্ক নতুন দিশার সন্ধান করছে। জয়শঙ্করের কূটনৈতিক বার্তা সেই পথকে আরও সুগম করে দিল— সহযোগিতা, ভারসাম্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে চলা।
বাচ্চার পছন্দের বার্গার ও পিৎজ়া, তবে স্বাস্থ্যকর করে কেমন করে তুলবেন?