প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষা
সাধারণত যাঁকে দেখা যায় মঞ্চ কাঁপাতে, ঝলমলে পোশাকে ভক্তদের মাতাতে, সেই জনপ্রিয় র্যাপার বাদশাকে সম্প্রতি দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। গ্ল্যামারাস দুনিয়া থেকে দূরে গিয়ে তিনি হাজির হলেন উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে, আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে। সেখানে তিনি নীরবতায় ভরে তুললেন মন, মনোযোগ দিয়ে শুনলেন আধ্যাত্মিক বাণী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দাদা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটাই—জীবন ও সম্পর্কের প্রকৃত অর্থ খুঁজে বের করা।
নীল-সাদা শার্ট, তার উপর লাল ও সোনালি রঙের উত্তরীয়, মাথা নিচু করে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা বাদশাকে দেখে অনেকে অবাক হয়েছেন। সাধারণত যাঁর চারপাশ থাকে ক্যামেরা ও কনসার্টের আলো, তাঁকে এমন একাগ্রভাবে আধ্যাত্মিক শিক্ষার মধ্যে ডুবে থাকতে দেখে ভক্তরা চমকে গিয়েছেন। সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
আলোচনার সময়ে বাদশার দাদা মহারাজকে বলেন, “আমরা সত্য জানতে চাই, কিন্তু সত্য জানার পর সম্পর্কগুলোতে ফাটল ধরে। মানুষ দূরে সরে যায়, ভালোবাসা কমে যায়। যেন সত্য বললেই সব শেষ হয়ে যায়।” এই কথার জবাবে প্রেমানন্দ মহারাজ ব্যাখ্যা দেন, “এই জগৎ মিথ্যায় ভরা। তাই যে সত্যের পথে হাঁটবে, তার সঙ্গী হবে একাকীত্ব। অনেকেই হয়তো সত্য শুনে বিরক্ত হবে, দূরে যাবে। কিন্তু পরমাত্মা তখনই তোমার পাশে থাকবেন এবং তিনি খুশি হবেন। তাই সত্যকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে হবে।”
এই সরল অথচ গভীর কথাগুলো যেন নতুন আলো দেখাল বাদশা ও তাঁর দাদাকে। মুহূর্তটিতে শুধু সেলিব্রিটি বাদশা নন, বরং এক সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি সত্য ও আধ্যাত্মিকতার কাছে মাথা নত করেছেন।
প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধার প্রমাণ মেলে আরও এক ঘটনার মধ্যে। কিছুদিন আগে অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি ও তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। জানা যায়, গুরুজির দুটি কিডনি বিকল। রাজ কুন্দ্রা নিজের একটি কিডনি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মহারাজ বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর কথায়, “ঈশ্বর যখন ডাকবেন, তখনই আমি যাব।”
গ্ল্যামার, সাফল্য আর খ্যাতির বাইরেও যে জীবনের গভীরে রয়েছে অন্য এক সত্য, তার সন্ধানে বাদশার এই যাত্রা যেন নতুন এক দিশা দেখাল ভক্তদের। বৃন্দাবনের সেই মুহূর্তে র্যাপারের মধ্যে যেন প্রকাশ পেল এক নীরব সাধকের সত্তা।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ