সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে সিবিআইয়ের আবেদন: হাই কোর্টে শুনানি কবে?

সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে সিবিআইয়ের আবেদন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের শাস্তি নিয়ে আবার উত্তাল আদালত। এই ঘটনার জন্য সঞ্জয়ের ফাঁসির আবেদন…

January 24, 2025
1 min read

সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে সিবিআইয়ের আবেদন

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের শাস্তি নিয়ে আবার উত্তাল আদালত। এই ঘটনার জন্য সঞ্জয়ের ফাঁসির আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এর আগে রাজ্য সরকারও একই দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছে, আগামী সোমবার এই সংক্রান্ত শুনানি হবে।

কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন। রাজ্য এবং সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।

সঞ্জয়ের শাস্তির প্রেক্ষাপট

আরজি কর-কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া শিয়ালদহ আদালতে প্রায় দু’মাস ধরে চলে। সিবিআই তদন্তে সঞ্জয় রায়কে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দেয়।

তবে রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে। তারা সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে মামলা দায়ের করে। রাজ্যের দাবি, সঞ্জয়ের অপরাধ “বিরলের মধ্যে বিরলতম” হওয়ায় ফাঁসি হওয়া উচিত।

সিবিআই বনাম রাজ্য সরকার

সিবিআইও রাজ্যের মতোই সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে আবেদন করেছে, তবে রাজ্য সরকারের আবেদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সিবিআইয়ের দাবি, নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার এক্তিয়ার রাজ্যের নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিআই এভাবে প্রথম পক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

সিবিআইয়ের পদক্ষেপ নজর কাড়ে। তারা সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতে বুধবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং শুক্রবার পুনরায় আবেদন জানায়। এর ফলে সিবিআই ও রাজ্যের আবেদন একসঙ্গে শোনার সিদ্ধান্ত নেয় হাই কোর্ট।

কেন শিয়ালদহ আদালতে ফাঁসির রায় হয়নি?

শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস শাস্তি ঘোষণার সময় বলেন, এই ঘটনা “বিরলের মধ্যে বিরলতম” নয়। তাই মৃত্যুদণ্ড নয়, সঞ্জয়কে আমৃত্যু কারাবাস দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩(১)-এর আওতায় সঞ্জয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, বিচারক মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড নয়, আমৃত্যু কারাবাসই যথেষ্ট।

তবে রাজ্য এবং সিবিআই উভয়েই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সঞ্জয়ের মৃত্যুদণ্ডের জন্য আবেদন জানায়।

হাই কোর্টে কি হবে?

সোমবার হাই কোর্টে রাজ্যের এবং সিবিআইয়ের আবেদন নিয়ে শুনানি হবে। সঞ্জয়ের ফাঁসি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের উপর নির্ভর করছে। রাজ্যের এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার এই একযোগে ফাঁসির দাবি আদালতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

অন্য অভিযুক্তদের অবস্থা

এই মামলায় সঞ্জয় রায় ছাড়াও কয়েকজন অভিযুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তবে সময়মতো চার্জশিট জমা না দেওয়ায় তাঁরা জামিন পেয়ে যান। সন্দীপ অবশ্য অন্য মামলায় বন্দি।

এদিকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সিবিআইয়ের পরবর্তী চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তাই সঞ্জয়ের শাস্তি ঘোষণার পরও এই মামলা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

উপসংহার

সঞ্জয় রায়ের অপরাধকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে আইনি লড়াই তীব্র আকার নিয়েছে। অপরাধীর ফাঁসি হবে কিনা, তা নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের হাতে। আরজি কর-কাণ্ডের মতো একটি নৃশংস ঘটনায় কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে সবাই। সোমবারের শুনানি ঘিরে তাই রাজ্য ও সিবিআইয়ের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন মহলের নজর থাকছে।

ইডেনে খেলেননি শামি, চেন্নাইয়ে কি খেলবেন? সতীর্থ আরশদীপের মন্তব্যে ধোঁয়াশা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *