‘সঙ্কটের জন্য দায়ী নয়াদিল্লি’, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতকে তোপ পাকিস্তানের, চাইল আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ

সঙ্কটের জন্য দায়ী নয়াদিল্লি! পহেলগাঁও হামলার রেশ এখনও কাটেনি। আর সেই সুযোগেই রাষ্ট্রপুঞ্জে ফের মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। একদিকে যখন ভারতের দূত যোজনা পটেল পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় একহাত নিয়ে বলেছিলেন, “পাকিস্তান এখন…

May 3, 2025
1 min read

সঙ্কটের জন্য দায়ী নয়াদিল্লি!

পহেলগাঁও হামলার রেশ এখনও কাটেনি। আর সেই সুযোগেই রাষ্ট্রপুঞ্জে ফের মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। একদিকে যখন ভারতের দূত যোজনা পটেল পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় একহাত নিয়ে বলেছিলেন, “পাকিস্তান এখন সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্গরাজ্য”, তখনই পাল্টা সুরে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে মুখ খুললেন পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ। তাঁর অভিযোগ— “এই সঙ্কটের মূল কারণ ভারতের অতি সক্রিয়তা।”

রাষ্ট্রপুঞ্জে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান এবার খোলাখুলি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইল ভারত-পাক দ্বন্দ্বে। আসিম আহমেদের বক্তব্য, “পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক মহল কার্যত চুপ। এ বিষয়ে আমরা তেমন কোনও আন্তর্জাতিক সমর্থনও পাচ্ছি না।” একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, “আমরা রাষ্ট্রপুঞ্জে আমাদের বক্তব্য জানাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।”

পাক প্রতিনিধি আরও দাবি করেন, “আমরা ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের সঙ্গে দু’বার বৈঠক করেছি। তাঁকে ওই অঞ্চল সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছি। আশা করি, তিনি সেখানে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখবেন।”

এই আলোচনায় উঠে এসেছে সিন্ধু নদ জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও। পাকিস্তানের অভিযোগ, “ভারত একতরফাভাবে সিন্ধুর জল আটকে রেখে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে।” আসিম বলেন, “এটা কোনও সাধারণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং যুদ্ধ ঘোষণারই সামিল।”

ভারত কী বলছে?

ভারতের বক্তব্য কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের দূত যোজনা পটেল সাফ জানিয়ে দেন, “পাকিস্তান বারবার জঙ্গি হামলার আশ্রয় নিচ্ছে। ২০০৮-এর মুম্বই হামলার পরে এবার পহেলগাঁওয়ে সবচেয়ে বেশি নিরস্ত্র নাগরিক প্রাণ হারালেন।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বহু দেশ এবার ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদ কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, তা এবার বিশ্ব বোঝার চেষ্টা করছে। এ দেশ এখন অপরাধীদের স্বর্গ।”

যদিও পাকিস্তানের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। “আমরা কিছুই লুকচ্ছি না। তদন্ত হোক, তবেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে,” বলে মন্তব্য করেছেন আসিম আহমেদ।

সার্বিক পরিস্থিতি

ভারত-পাক সম্পর্কের চিরাচরিত টানাপোড়েনে আবারও নতুন মাত্রা যোগ করল পহেলগাঁও সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রপুঞ্জের বিতর্ক। একদিকে ভারত সন্ত্রাস দমনে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তান নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া। তবে আন্তর্জাতিক মহল কাকে কতটা গুরুত্ব দেবে, এখন সেটাই দেখার।

এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধান কতটা কার্যকর হয়, সেটা সময়ই বলবে। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জে মুখর পাকিস্তান একটাই বার্তা দিচ্ছে— “ভারত ছাড়া এই সঙ্কট শুরুই হতো না।”

কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *