রেজিনগরে হারের পর দুবাইয়ে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা হুমায়ুনের!
রেজিনগর উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এ বার শুধু রাজনীতি নয়, দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে স্থায়ী ভাবে থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ করতে করতে তিনি মানসিক ভাবে ক্লান্ত। জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে চান।
রেজিনগরে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী ছিলেন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজ়াদ। উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন হুমায়ুন জানান, এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক শক্তি আর তাঁর নেই। তাঁর পরিকল্পনা, মুর্শিদাবাদে প্রতিশ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করে গোল্ডেন ভিসা নিয়ে দুবাইয়ে চলে যাওয়া।
বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসনে ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু উপনির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থী গোলাম নবি আজ়াদ পিছিয়ে পড়েছেন। বিজেপি প্রার্থী ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভোটের পর নিজের ছেলেকেও ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেছিলেন হুমায়ুন।
নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে অন্যায় বরদাস্ত করিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বড় হয়েছি। এখন আমি ৬৪। আগামী ২৯ তারিখ ৬৫ পূর্ণ হবে। জীবনের শেষ দিনগুলো দুবাইয়ে শান্তিতে কাটাতে চাই।” তাঁর পরিকল্পনা, সেখানে খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাফেরা এবং সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করে বাকি জীবন কাটানো। মৃত্যুর পর সেখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমায়ুনের অভিযোগ, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে গত দু’মাস ধরে শাসকদল ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে দলের নেতা-কর্মী ও অনুগামী মিলিয়ে অন্তত ৬৪ জনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। মারধর, বাড়ি ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এমনকি, ২০২২ সালের পুরনো মামলা নতুন করে সামনে এনে তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের বিপাকে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
তবে দেশ ছাড়ার আগে একটি দায়িত্ব পূরণ করতে চান হুমায়ুন। মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ না করে তিনি দুবাই যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “মসজিদ কমপ্লিট করে তবেই যাব। তার পর যদি বেঁচে থাকি, তবে দুবাই পাড়ি দেব।”
মসজিদ নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অনুদান নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্যের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার কম। অথচ বাইরে ৫০০ বা ৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহের কথা বলে ভিত্তিহীন প্রচার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংগৃহীত অর্থে জমির বন্দোবস্ত, পরিকল্পনা ও খরচের হিসাব তৈরি হয়েছে এবং নির্মাণকাজে ইতিমধ্যেই দু’কোটির বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং দেশ ছাড়ার বিষয়ে হুমায়ুনের এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি সত্যিই দুবাইয়ে স্থায়ী হবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।