শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নতুন ঝড়: সরকারি হস্তক্ষেপে পদত্যাগ, ফের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নতুন ঝড়! শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট আবারও বড় সঙ্কটের মুখে। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের জেরে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভা-সহ…

April 29, 2026
1 min read

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নতুন ঝড়!

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট আবারও বড় সঙ্কটের মুখে। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের জেরে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভা-সহ সব পদাধিকারী। ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি, আর সেই সঙ্গে মাথাচাড়া দিচ্ছে আন্তর্জাতিক শাস্তির আশঙ্কাও।

ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘদিনের অভিযোগ ঘিরে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ছিল সরকার। শেষমেশ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, সরকারের চাপেই বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের সরে দাঁড়াতে হয়।

মঙ্গলবার একটি জরুরি বৈঠকের পর শাম্মি সিলভা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগ ঘোষণা করেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে পুরো পরিচালন পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে অন্যান্য পদাধিকারীরাও একযোগে ইস্তফা দেন। বোর্ড এখন কার্যত নেতৃত্বশূন্য।

বোর্ডের এক কর্তার কথায়, এই শূন্যস্থান পূরণে খুব শীঘ্রই একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেই কমিটিতে রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিও থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এমনকি বিরোধী শিবিরের কোনও নেতাকে অন্তর্বর্তী সভাপতি করা হতে পারে বলেও জল্পনা।

এই নাটকীয় পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বোর্ড সভাপতির সাম্প্রতিক বৈঠক। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দেশনায়েক গত সপ্তাহে শাম্মি সিলভার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েই সেই বৈঠক ছিল। অনেকের মতে, ওই বৈঠকেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

তবে এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ শ্রীলঙ্কার জন্য নতুন সমস্যা ডেকে আনতে পারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি স্পষ্টভাবেই ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে একই কারণে শ্রীলঙ্কাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল তারা। যদিও ২০২৪ সালের শুরুতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আবারও সেই শাস্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি আইসিসি মনে করে যে সরকারের প্রভাব ক্রিকেট প্রশাসনে অতিরিক্ত হয়ে উঠছে, তা হলে ফের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কা।

সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও এখন বড় চ্যালেঞ্জের সামনে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট। প্রশাসনিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনের মাঝে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *