শেফালির বিশ্বরেকর্ড
এশিয়ান গেমসের ফাইনালেই বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ভারতের ওপেনার শেফালি বর্মা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে শতরানের পর এ বার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে ২৯ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। সেই ইনিংসের সৌজন্যেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক বছরে সর্বাধিক রান করার নজির নিজের নামে করে নিলেন ভারতীয় ব্যাটার।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে দেখা যায় শেফালি এবং স্মৃতি মন্ধানাকে। পাওয়ার প্লে-তেই ভারত কোনও উইকেট না হারিয়ে তুলে নেয় ৬৭ রান। ছোট বাউন্ডারির সুবিধা কাজে লাগিয়ে দুই ওপেনারই শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন।
তবে বেশিক্ষণ ক্রিজ়ে থাকতে পারেননি শেফালি। ২৯ বলে ৪৮ রান করে চামুদি প্রবোধানের বলে আউট হন তিনি। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট হারান ভারতীয় ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার এবং তিনটি ছক্কা।
শেফালির এই ইনিংসই তাঁকে পৌঁছে দেয় বিশ্বরেকর্ডের মঞ্চে। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রান করার ক্ষেত্রে এত দিন রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্টের দখলে। তাঁকে টপকাতে শেফালির প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। ফাইনালে ৪৮ রান করে সেই ব্যবধান অনায়াসেই পেরিয়ে গেলেন তিনি।
২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেফালির রান ৮৬৩। তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৯.২২ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬২.৮৩। চলতি বছরে একটি শতরান এবং সাতটি অর্ধশতরানও করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ইনিংস ১০০ রানের।
তালিকায় শেফালির পরেই অবশ্য রয়েছেন তাঁর সতীর্থ স্মৃতি। বাঁহাতি ওপেনারও এ বছর দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭৬৫ রান। একটি শতরান এবং পাঁচটি অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর নামের পাশে।
ফাইনালে শেফালি ফিরে গেলেও ভারতের রানের গতি কমেনি। স্মৃতি মন্ধানা নিজের ইনিংসকে আরও বড় করে তোলেন। ৪৫ বলে ৭৯ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং সাতটি ছক্কা। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর অবশ্য ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি। ১৭ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি।
এর পর ভারতকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন রিচা ঘোষ। মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন বাংলার এই ব্যাটার। ছ’টি চার এবং তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস ভারতকে ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান তোলে ভারত।
শেফালির বিশ্বরেকর্ডের সঙ্গে তাই ফাইনালে ভারতের ব্যাটিং ইনিংসেও যোগ হল একাধিক নজরকাড়া পারফরম্যান্স। এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াইয়ে ভারত যে বড় রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তার শুরুটা করেছিলেন শেফালিই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।