বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়াডে ব্রোঞ্জ পাকিস্তানের!
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সোনার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে এশিয়ান গেমস থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরতে হল না ফাতিমা সানা এবং তাঁর দলকে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ পদক ঘরে তুলল পাকিস্তানের মহিলা ক্রিকেট দল।
প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান তোলে। তবে শুরুটা মোটেই স্বস্তির ছিল না তাদের। এক সময় মাত্র ৬৭ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তখন মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে হয়তো ১০০ রানের কাছাকাছিই থেমে যাবে তাদের ইনিংস।
সেই জায়গা থেকেই দলকে টেনে তুললেন অধিনায়ক ফাতিমা। দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে মাত্র ৩০ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসের উপর ভর করেই লড়াই করার মতো রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।
১৪৫ রান অবশ্য এই মাঠে খুব বড় লক্ষ্য ছিল না। ছোট মাঠ এবং ব্যাটিংয়ের উপযোগী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জেতার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় রান তোলার গতি তৈরি হয়নি। অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং শারমিন আখতার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের ব্যাটিং চলাকালীন বাংলাদেশের জয়ের আশা টিকে ছিল। কিন্তু দু’জনেই ফিরে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
নিগার ২৫ রান করে আউট হন। শারমিন কিছুটা বেশি সময় ক্রিজে থেকে ৪৬ রান করেন। তবে তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে আর বড় জুটি তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ৩১ রানে ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন উম-ই-হানি। তিনি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের রান তাড়ার গতি কমিয়ে দেন। ব্যাট হাতে ফাতিমার ৪৫ রানের পর তাঁর নেতৃত্বেই ম্যাচের শেষ ভাগে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে পাকিস্তান।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের মহিলা দলের তৃতীয় পদক। এর আগে ২০১০ এবং ২০১৪ সালের এশিয়াডে সোনা জিতেছিল তারা। মজার বিষয়, সেই দু’টি ফাইনালেও পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাফল্যের ধারাটি এ বারও বজায় রইল।
চলতি এশিয়ান গেমসে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্রোঞ্জ পদক। ক্রিকেটের পাশাপাশি মিক্সড মার্শাল আর্টস থেকেও একটি পদক পেয়েছে তারা।
ফাইনালে ওঠা সম্ভব হয়নি, কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ জিতে অন্তত পদক নিয়ে দেশে ফেরার পথ তৈরি করল পাকিস্তানের মহিলা দল। আর সেই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক ফাতিমা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।