শুধু বয়স্ক নন, তরুণদেরও কাবু করছে অস্টিওআর্থারাইটিস! কীভাবে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্ভব?

শুধু বয়স্ক নন, তরুণদেরও কাবু করছে অস্টিওআর্থারাইটিস! একসময় হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওআর্থারাইটিসকে মূলত বয়সজনিত সমস্যা বলেই মনে করা হত। কিন্তু বর্তমানে চিত্র অনেকটাই বদলেছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, শরীরচর্চার অভাব, অতিরিক্ত ওজন…

June 26, 2026
1 min read

শুধু বয়স্ক নন, তরুণদেরও কাবু করছে অস্টিওআর্থারাইটিস!

একসময় হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওআর্থারাইটিসকে মূলত বয়সজনিত সমস্যা বলেই মনে করা হত। কিন্তু বর্তমানে চিত্র অনেকটাই বদলেছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, শরীরচর্চার অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা, এমনকি মাটিতে বসার মতো দৈনন্দিন কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌমেন করের মতে, হাঁটুর জয়েন্ট মূলত তিনটি হাড় এবং তিনটি পৃথক কম্পার্টমেন্ট নিয়ে গঠিত— মেডিয়াল, ল্যাটেরাল এবং প্যাটেলোফিমোরাল কম্পার্টমেন্ট। অস্টিওআর্থারাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণত প্যাটেলোফিমোরাল অংশ থেকেই শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়লে হাঁটুর গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। অনেকের হাঁটু বেঁকে যায়, যার প্রভাব পরে কোমরেও পড়ে এবং কোমরব্যথার সমস্যাও দেখা দেয়।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অস্টিওআর্থারাইটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • নিয়মিত পায়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করুন।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • অপ্রয়োজনে বেশি সিঁড়ি ওঠানামা এড়িয়ে চলুন।
  • অসমতল বা খুব খারাপ রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ হাঁটা থেকে বিরত থাকুন।
  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে শরীর নড়াচড়া করুন।

চিকিৎসার কী কী উপায় রয়েছে?

রোগের পর্যায়ের উপর নির্ভর করে চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করা হয়। যদি অস্টিওআর্থারাইটিস একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে আর্থোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কার্টিলেজের চিকিৎসা বা পুনর্গঠন করা সম্ভব।

অন্যদিকে, যদি রোগ অনেকটাই এগিয়ে যায় এবং হাঁটুর মেডিয়াল কম্পার্টমেন্টে উল্লেখযোগ্য ক্ষয় দেখা দেয়, তখন হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন সব ক্ষেত্রেই পুরো হাঁটু বদলানোর প্রয়োজন হয় না। যদি ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপন (Partial Knee Replacement) করেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এতে অস্ত্রোপচারের কাটা-ছেঁড়া তুলনামূলক কম হয়, ব্যথাও কম থাকে এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

অস্ত্রোপচার নিয়ে ভয় কি অমূলক?

অনেক রোগীর ধারণা, হাঁটু প্রতিস্থাপনের পর আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজ করা সম্ভব হবে না। চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। বর্তমানে উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, আধুনিক ইমপ্লান্ট এবং সঠিক ফিজ়িওথেরাপির সাহায্যে অধিকাংশ রোগীই আগের মতো সক্রিয় জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারেন।

তবে হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা বারবার বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রোগ যত দ্রুত ধরা পড়বে, চিকিৎসাও তত সহজ এবং কার্যকর হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *